জুলাই মাসের বেতন ৭ আগস্টের মধ্যে পাওয়া যাবে তো?

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:১৪
গত ১ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন ব্যাংকে হস্তান্তরের একটি সংবাদ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে খুশির বার্তা আনলেও এ খুশির পেছনে হতাশা লুকিয়ে রয়েছে। তারা আদৌ এ সময়ের মধ্যে বেতন পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ আগামী ৭ আগস্টের পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের স্ব-স্ব ব্যাংক একাউন্টের নম্বরের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের কথা বলা হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা কখনো শেষ তারিখের মধ্যে টাকা উত্তোলন করতে পারেন না। এবিষয়টি হয়তো আমাদের জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের জানা আছে। সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংকগুলো শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিমাসে বেতনভাতা উত্তোলনের সরকারি ঘোষণার শেষ তারিখ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তাদের অজুহাতের শেষ থাকে না। ব্যাংকে এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) কপি আসে নাই। বিল জমা দেন। প্রত্যেক একাউন্টে পোস্টিং দিতে হবে। এরকম নানা অজুহাতে আরো ২/১দিন চলে যায়। এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারের সম্মুখীনও হতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠানের বিল প্রদান করে। এতে করে একটি উপজেলার সবগুলো প্রতিষ্ঠান বেতন পেতে সর্বোচ্চ ১৫দিন সময় লেগে যায়। এদিকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীন এইচএসসি (বিএম) ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন উত্তোলনে আরো দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতার আদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আলাদাভাবে এমপিও কপি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর জেলা সদরের জোনাল কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। জোনাল কার্যালয় থেকে ডাকযোগে উপজেলা সদরের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রেরণ করা হয়। এতে করে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায়। যার ফলে তারাও সরকার ঘোষিত শেষ তারিখের মধ্যে কখনো বেতন তুলতে পারেন না। জেনারেল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ১ সপ্তাহ পর কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন উত্তোলন করেন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিমাসের বেতনভাতা উত্তোলনে এ ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা উত্তোলনের এ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রভাষক (সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টেকনিক্যাল অ্যান্ড কমার্স কলেজ, রামেরবাগ, বাঙ্গড্ডা বাজার, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা