মাছ ও সবজি চাষে উত্সাহী হচ্ছে কৃষক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৯
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের কৃষক হরে কৃষ্ণ মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে শসা, সবজি, ধান ও মাছ চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। একসময়ের দক্ষিণাঞ্চলের দুঃখ নামে খ্যাত ভবদহের জলাবদ্ধতা কেড়ে নিয়েছিল তার ঘের বেড়িসহ সহায়-সম্বল। লাখ ্লাখ টাকা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। নিজের দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী-পুত্রের আপত্তিতে দেশে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে কষ্টের মাধ্যমে মাত্র তিন বছরে হরে কৃষ্ণ শসা ও সবজি চাষ করে তার ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। বর্তমানে তিনি অর্ধ কোটি টাকার মালিক। হরে কৃষ্ণ ইত্তেফাককে বলেন, গত ৮ বছর আগে মাত্র বারো হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ঘেরে মাছ চাষের জন্য স্থানীয় ঝিকরার বিলে তার নিজ নামের ৪২ শতাংশসহ ৪ বিঘা জমিতে একটি চিংড়ি মাছের খামার গড়ে তোলেন। সে বছর খরচ বাদে তার লাভ হয় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। পরের বছর আরও লাভের আশায় তিনি ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আর একটি মাছের খামার গড়ে তোলেন। সে বছরও তিনি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৩ লাখ টাকা লাভ করেন। কিন্তু ২০০৬ সালে ভবদহ এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় তার সবকিছু কেড়ে নিয়ে যায়। সে বছর তার ক্ষতি হয় প্রায় ৮/১০ লাখ টাকা। তা ছাড়া তিনি তার এক ভাইয়ের ৩৫ লাখ টাকার লোনের গ্যারান্টার হওয়ায় তার জন্য তাকে ১৮ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়। আবার ২০০৬ সালে গোয়ালের গরু বিক্রি করে কাজ শুরু করেন। আর সেখান থেকে ভাগ্য উন্নয়ন ঘটতে থাকে হরে কৃষ্ণ সরকারের। বর্তমানে তিনি নিজের ৩৫ বিঘা ও যৌথ ৪০ বিঘা জমিতে ৫টি ঘের করে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে শসা ও নানা রকম সবজির চাষ করছেন। শুধু শসা ও সবজি চাষে তার বছরে আয় হয় ৬/৭ লাখ টাকা।