পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স ছাড়াও হজ্ব যাত্রীরা তাদের পছন্দমত এয়ারলাইন্সে সৌদি আরব গমনের সুযোগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত গত ২৯ জুলাই হাইকোর্ট সরকার নির্ধারিত দুটি এয়ারলাইন্স বাদে অন্য এয়ারলাইন্সে হজ্বযাত্রী পরিবহনের সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে সরকার পক্ষ। আদালতে এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ও রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক ও অ্যাডভোকেট কেএম হাফিজুল আলম শুনানি করেন। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। তবে তিন রিট আবেদনকারীর মধ্যে শুধু রেজাউল ইসলামকে যে কোন এয়ারলাইন্সে হজ্বে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি।
পরে এটর্নি জেনারেল বলেন, চেম্বার বিচারপতি আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন। তবে তিন রিটকারীর মধ্যে একজনকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী এয়ারলাইন্স বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত গত ২৪ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের নেয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়, এবারে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন হজ্ব যাত্রী পবিত্র হজ্বব্রত পালনে যাবেন। এর মধ্যে ৫০ ভাগ বিমান ও বাকি ৫০ ভাগ হজ্বযাত্রী সৌদি এয়ারলাইন্স বহন করবে। হজ্বযাত্রী পরিবহন খাতে যাতে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সসূমহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যাকআপ উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করবে। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন হজ্ব এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সহ-সভাপতি ও আল মাহমুদ ট্রাভেলস’র স্বত্বাধিকারী আব্দুল কবির খান, মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ ও রেজাউল ইসলাম নামের এক হজ্বযাত্রী।
