একাদশ সংসদ নির্বাচন

চট্টগ্রামে প্রার্থী মনোনয়নে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪২

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এমপি প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন সরাসরি রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে এলেও অনেকেই ব্যবসায়ী নেতা থেকে পরবর্তীতে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। বর্তমানে এখানকার ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও পরিচালকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের উচ্চপদে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পরিচালকদের মধ্যে অন্তত ৮ জন এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে উভয় দলের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সকল প্রার্থী চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি। চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবার পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ’৯১ এর জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া আসনে উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। অন্য দিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমএ লতিফ ২০০৮ সালে একই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন।

চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকেও এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের প্রার্থী চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রাক্তন দুই সভাপতি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি ওই আসনে ২০০৮ সালে বিজয়ী তার পিতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতিসহ এফবিসিসিআই’র সভাপতি ছিলেন। বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম মূলত ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি ২০০৮ সালে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসন থেকে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম এ মোর্শেদ খান। তিনিও চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক এবং পরবর্তীতে বিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক দিদারুল আলম এমপি। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। অন্য দিকে এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন আসলাম চৌধুরী। তিনিও গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের আবুল কাশেম মাস্টারের কাছে পরাজিত হন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ দিকে, চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদ। তিনি কখনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯১ সালে ওই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।