শ্রেণি-পেশা ভিন্ন ইফতারে এক

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২২:০৫

কমলাপুর রেলস্টেশন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সন্ধ্যা ৬টা। ইফতারের তখনো আরো কিছুক্ষণ বাকি। কমলাপুর রেলস্টেশনের বিভিন্ন জায়গায় তখন মানুষ গোল হয়ে ইফতারের আয়োজন করছে। আরিফুর রহমান ব্যবসার কাজে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। রাত ৮টায় তার ট্রেন। আগেভাগেই স্টেশনে এসে পৌঁছে গেছেন। সহযাত্রী আরো কয়েকজন মিলে ইফতারের আয়োজন করছিলেন। দিনাজপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন সাইফুল ইসলাম ও শামিম মোল্লা। সাতটা চল্লিশে তাদের ট্রেন। তারও একসাথে ইফতারে শামিল হয়েছেন সহযাত্রীদের সাথে। দুই, তিন বা চারজনের ছোট ছোট দলে বসে ইফতার করছেন।

এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গন্তব্যে ফেরার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে আসছেন। ইফতারের সময় শতশত মানুষ একসাথে শামিল হয়ে ইফতারে অংশগ্রহণ করছেন। এক একজন কিনছেন বিভিন্ন ধরনের ইফতারসামগ্রী। কেউ ছোলাবুট কিনে এনেছেন, কেউবা বাসা থেকে বিরিয়ানি রান্না করে এনেছেন। আবার কেউ কেউ নিয়ে এসেছেন জুস-শরবত। খাওয়ার সময় একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন। এক একজন দেশের বিভিন্ন জায়গার বাসিন্দা হলেও পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার সবাইকে একই ছাদের নিচে মিলিয়েছে। চলার পথে এভাবে ইফতার সারতে হলেও এই নিয়ে খেদ নেই কারো মনে।

অন্য দিকে, পথশিশুরাও একসাথে ইফতার করছে কমলাপুর রেলস্টেশনে। রনি, আসিফ ও নয়ন। তিনজনই পথশিশু। কমলাপুর রেলস্টেশনেই ওদের থাকা-খাওয়া। রোজা না থাকলেও মনের আনন্দে ইফতার করছিল তারা। জানতে চাইলে বলল, প্রতি রমজানে সবার সাথে তারাও ইফতার করে। ভালো লাগে বসে খেতে।

আর স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মচারী নিজ নিজ শাখায় একসঙ্গেই ইফতারের আয়োজন করেন। টিকিট চেকার নাজমুল হোসেনের বাসা স্টেশনের কাছেই। কিন্তু চাকরির কারণে স্টেশনেই ইফতার সারতে হয়। জানালেন, সহকর্মীদের সঙ্গে একসাথে ইফতার করতে ভালোই লাগে তার।

ডাক বাছাই কেন্দ্রে দেখা গেল, কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ইফতার করছেন সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আব্দুস সালাম নামে এক কর্মচারী জানালেন, প্রতিদিন ১০-১৫ জন একসঙ্গে ইফতার করেন তারা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ইফতার করার আনন্দ আলাদা। কিন্তু কর্মের জন্য কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার করতে হয়। কিন্তু তাতেও কম আনন্দ পান না বলে জানান তারা।

দিন যত বাড়বে, কমলাপুর রেলস্টেশনে ইফতারের সময় লোকজনের সংখ্যা তত বাড়বে। কারণ ঢাকা থেকে বাড়িমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়বে। বিশেষ করে, ইফতারের পর পরই যেসব ট্রেন ঢাকা ছেড়ে যায় সেসব ট্রেনের যাত্রীরা আগেভাগেই আসেন এবং স্টেশনে ইফতার করেন।