মহাসাগরে পড়ছে ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয় পানি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:২০
জাপানে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর দুর্ঘটনাকবলিত ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রের সৌরচুল্লি থেকে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পানি মহাসাগরে চুইয়ে পড়ে ‘সঙ্কটজনক পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে দেশটির ‘নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি অথোরিটি’ (এনআরএ)। মাটির নিচের একটি দেয়ালের ফাটল দিয়ে দূষিত এই পানি বেশি মাত্রায় ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসছে। সোমবার রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন এনএআর এর প্রধান শিনজি কিনজো। তিনি বলেন, এ পানি প্রবাহ ঠেকাতে টোকিও ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) যে সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছে তা সাময়িক এবং পরিস্থিতি ‘এ মুহূর্তে সঙ্কটজনক’। ২০১১ সালে জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর প্রায় ৩০ মাস ধরে তেজস্ক্রিয় দূষণ ঠেকানোর চেষ্টায় টেপকো ব্যর্থ হওয়ার পর এখনো ফুকুশিমার ১ নাম্বার সৌর চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয় পানি চোয়ানো বন্ধে সফল হয়নি। ফুকুশিমার সাগরপাড়ের ১ নাম্বার ও ৩ নাম্বার সৌরচুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয় পানি সাগরের পানিতে গিয়ে মিশছে। এ বিষয়টিই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে। মাটির নিচের এই তেজস্ক্রিয় পানি কি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তা এ মুহূর্তে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের শুরুতে জাপানে সরকারের সম্মতিতে টেপকো জরুরি ভিত্তিতে বহু মেট্রিকটন তেজস্ক্রিয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে। টেপকোর এ পদক্ষেপ অনেক সমালোচনারও শিকার হয়। গত জুলাইয়ে টেপকো প্রথম তেজস্ক্রিয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে মেশার কথা স্বীকার করে। আর এবার তারা ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত কতটা তেজস্ক্রিয় ট্রিটিয়াম প্রশান্ত মহাসাগরে মিশেছে তার প্রথম একটি আনুমানিক হিসাব দিয়েছে। এ পরিমাণ ২০ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন বেকারেল বলে জানিয়েছে টেপকো। তারা জানায়, ১ নাম্বার সৌরচুল্লি থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে পানি চুয়ানো ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রকল্পের কর্মীরা।