ঈদের আনন্দ নেই গ্রেনেড হামলায় নিহত আতিকের পরিবারে। প্রতিদিনের খাবার যোগাড় আর লেখা-পড়ার খরচ চালানো যখন সম্ভব হচ্ছে না আতিকের বিধবা স্ত্রী লাইলী বেগমের, তখন এতিম সন্তানদের ঈদের কেনাকাটা কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা ভালো নেই। আগস্ট মাস এলে সাংবাদিকরাই আমাদের খবর নিতে আসে। এ কথাগুলো বললেন ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আতিকের স্ত্রী লাইলী বেগম।
মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচআনী গ্রামের ছালামত সরকারের ছেলে আতিকুর রহমান সরকার (৪০) ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। সে থেকে আতিকের স্ত্রী ৪ শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। আতিকের মেয়ে তানিয়া ১০ম শ্রেণিতে, ছেলে মিথুন ৯ম শ্রেণিতে, মিন্টু ৫ম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে শাকিব ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। অর্থের অভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাবার কাছে চাওয়া-পাওয়া এখন তাদের স্বপ্ন। তাই ঈদের আনন্দ নিয়ে তারা তেমন ভাবছে না।
গতকাল মঙ্গলবার আতিকের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের লোকজন প্রথমে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাননি। পরে বললেন, এ মাস এলে সাংবাদিকরাই আমাদের খবর নিতে আসে। অনেক কিছু লেখেন। কিন্তু আমাদের খবর তো কেউ নেয় না। সন্তানরা বলেন, আমরা লেখাপড়া করতে চাই। আমাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিন।
নিহত আতিকের স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, আমার পরিবারে রোজগার করার মতো কেউ নাই। সন্তানদের লইয়া এখন অসহায় জীবন-যাপন করছি। অভাবের কারণে সংসার চালাইতে পারছি না। সন্তানদের লেখাপড়া চালানো আর সম্ভব অইতাছে না। প্রথমদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ টাকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ৭ হাজার টাকা দেন। তারপর আর কোনো অনুদান পাই নাই।
