সাভার ট্রাজেডির শিকার মেহেরপুর জেলার প্রায় ২০ গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের মাঝে নেই ঈদ আনন্দ। ভবন ধসে কয়েকজন জীবিত উদ্ধার হলেও তারা এখন বেকার জীবন-যাপন করছেন। আর নিহত ১ জন ও নিখোঁজ ৪ গার্মেন্টস শ্রমিকের পরিবারে এখনও শোকের মাতম। যাদের আয় দিয়ে চলতো সংসারের খরচসহ ঈদের কেনাকাটা তারা চলে গেছে না ফেরার দেশে।
রানা প্লাজা ধসের পর ১৫ জন গার্মেন্টস শ্রমিক জীবিত ও তেরাইল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তেরাইল গ্রামের জুয়েল রানা, গাড়াডোব গ্রামের রাশিদা খাতুন, মদনাডাঙ্গা গ্রামের সাদাত আলী ও রবিউল ইসলাম এখনও নিখোঁজ। ডিএনএ পরীক্ষার পরেও স্বজনদের সন্ধান মেলেনি। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে দরিদ্র পরিবারের এসব মানুষ গিয়েছিলেন গার্মেন্টসে কাজ করতে। তাদের আয় দিয়েই চলতো সংসারের খরচ। বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তানরা তাদের হারিয়ে এখন পাগল। ঈদে ছেলে বাড়ি ফিরবে পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করবে এমনই অপেক্ষায় থাকতেন তারা। কিন্তু তারা আর ফিরে আসবে না।
নিখোঁজ জুয়েল রানার বৃদ্ধ পিতা নাজিম উদ্দীন ও মা মহিরন খাতুন খুপরি ঘরের বারান্দায় আনমনা হয়ে বসে ছিলেন। ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতেই অঝোরে কান্না শুরু করলেন তারা। নজিম উদ্দীন জানালেন, জুয়েল ছিল তাদের একমাত্র সম্পদ। ভিটেটুকু ছাড়া তাদের আর কোন সম্পত্তি নেই। ছেলের অর্থ দিয়ে চলতো তাদের ছোট্ট সংসার। সরকার ঘোষিত কোন অনুদান কিংবা সহযোগিতা এখনও মেলেনি। স্থানীয়ভাবেও কেউ খোঁজ নেয়নি তাদের। শুধু জুয়েল রানা নয় নিখোঁজ সাদাত হোসেন, রবিউল ইসলাম, রাশিদা খাতুন ও নিহত শহিদুল ইসলামের পরিবারে একই অবস্থা বিরাজ করছে।
