যুক্তরাজ্যে বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা মানি ট্রান্সফার এজেন্সিগুলোকে (অর্থ আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান) সুরক্ষার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে ২৫ হাজার ৬শ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। দেশটিতে একমাত্র বাঙালি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলীর চালু করা ক্যাম্পেইনের অংশ হিসাবে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় ১১টায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এ স্মারকলিপি প্রদানে রুশনারা আলীর সাথে উপস্থিত ছিলেন শীমা মালহাতরা এমপি, স্টিফেন টিমস এমপি এবং সংকটে থাকা মানি ট্রান্সফার এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তা ও ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। এ সময় লন্ডন অলিম্পিকে সাড়া জাগানো ব্রিটিশ দৌড়বিদ ফারাহ’র লেখা একটি চিঠিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুশীলনের কাজে দেশের বাইরে থাকায় সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এ ক্রীড়াবিদ স্মারকলিপি প্রদানে অংশ নিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, বারক্লেস ব্যাংক গত মে মাসে ব্রিটেনের অধিকাংশ মানি ট্রান্সফার এজেন্সিকে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়ে ৬০ দিনের নোটিস দেয়। এর ফলে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণকারী প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঝুঁকিতে পড়ে। এসবের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানাধীন এজেন্সি রয়েছে ১১টি। মানি ট্রান্সফার ব্যবসায় অবৈধ অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মত ঝুঁকি থাকায় বারক্লেস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১০ জুলাই বারক্লেসের দেয়া নোটিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন তরফ থেকে অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে সেই মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে রুশনারা আলী আরো ৯ জন ব্রিটিশ এমপিকে সাথে নিয়ে গত মাসে ‘সেইভ রেমিটেন্স গিভিং ক্যাম্পেইন’ শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আত্মীয়- স্বজনের পাঠানো রেমিটেন্সের গুরুত্ব তুলে ধরে গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি নিবন্ধও লিখেন।
মো ফারাহ বলেন, অর্থ প্রেরণের গুরুত্বের বিষয়টি সরকার এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঠিকভাবে অনুধাবন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘দাহাবশিল’ (সোমালিয়ায় অর্থ প্রেরণকারী একটি প্রতিষ্ঠান) এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার নিজের দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মো ফারাহ ফাউন্ডেশন’ এবং আরো অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন তাদের অর্থ প্রেরণে সমস্যায় পড়বে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ঐসব দরিদ্র মানুষ যাদের জন্য এ সাহায্য বেশি প্রয়োজন। তিনি মানি ট্রান্সফার এজেন্সিগুলো বন্ধের বিষয়টিকে সোমালিয়ার লাখ লাখ মানুষের জন্য জীবন-মৃত্যুর খেলা হিসাবে আখ্যায়িত করে এ সংকট সমাধানে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রুশনারা আলী বলেন, ব্রিটিশ সরকার বিষয়টিতে চুপ থাকতে পারে না। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হলে এশিয়া, আফ্রিকার কোটি কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। এটা ব্রিটেনের ভাবমূর্তির জন্য মোটেই ইতিবাচক নয়।
