রাজধানীতে চার দিনে পৃথক ঘটনায় নারীসহ নয়জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচজনের।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার মালিবাগে বাসের ধাক্কায় আজাহার আলী (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি তুরান সিকিউরিটি সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল সকালে মালিবাগ নূরে জামে মসজিদের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় তুরাগ পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ বাসটির চালক ও হেলপারকে আটক করেছে। আজাহারের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাচারীকান্দি এলাকায়।
এদিকে ঈদের দিন শুক্রবার ভোরে এলিফ্যান্ট রোডে বাটা সিগন্যাল এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন (২৮)। তিনি ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। আমজাদ কামরাঙ্গীর চরের রসুলপুর এলাকায় থাকতেন। একইদিন সকালে উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বানেছা (২৫) নামের এক তরুণী নিহত হন। তিনি উত্তরা-১০ নম্বর সেক্টরের কামারপাড়া এলাকার একটি বস্তিতে থাকতেন। শুক্রবার সকালে বস্তি সংলগ্ন রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় তিনি নিহত হন।
মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন সুলতান (৪০) নামের এক ব্যক্তি। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। রাত ২টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দু’জনের লাশ
পুরান ঢাকার কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোডের একটি চালের দোকান থেকে বৃহস্পতিবার বিল্লাল হোসেন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি মেসার্স নিউ রাইস এজেন্সি নামের ঐ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন। বৃহস্পতিবার ইফতারের সময়ে তার দোকানের সাটার নামানো দেখে ভেতরে উঁকি দেন এক শ্রমিক। এসময় পেছনের ঘরে তাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। কোতয়ালী থানার এসআই শহীদুল ইসলাম জানান, তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে মেরুল বাড্ডার পূর্ব নূরের চালা এলাকার একটি দোকান থেকে বৃহস্পতিবার মাসুদ রানা (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভাটারা থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, আল-আমিন স্টোর নামের ঐ দোকানটির মালিক ছিলেন মাসুদ রানা। সেখানেই তাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তিনজনের ঝুলন্ত লাশ
রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকার তিন নম্বর সড়কে বি/৩৮ নম্বর বাসার অদূরে গাছের ডালে শনিবার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আশপাশের লোকজন ঐ যুবককে সুমন হিসাবে চিহ্নিত করে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। গাইবান্ধায় তার বাড়ি। মৃতদেহের সঙ্গে থাকা একটি চিরকুটে লেখা ছিল-‘শারমীন, তুমি সুখে থাকো। আমার লাশ দেশের বাড়িতে নিয়ে যেও।’ পরে শনিবার রাতে সুমনের লাশ গাইবান্ধায় নিয়ে যায় তার পরিবারের সদস্যরা।
কামরাঙ্গীর চরের পশ্চিম নবীনগরের একটি বাসা থেকে শনিবার রাতে আল-আমিন (১৭) নামের কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে মরিচের গুঁড়ো তৈরির একটি কারখানায় কাজ করতো। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে।
বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব দোলাইরপাড়ের ৬৭২ নম্বর বাসা থেকে আবুল কালাম (৩০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পিকআপ ভ্যানের হেলপার ছিলেন। কী কারণে তিনি গলায় ফাঁস দেন তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
