নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যা মামলায় লিটন আবারো রিমান্ডে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৭
নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানকারী ইউসুফ হোসেন লিটনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব। গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেনের আদালতে রিমান্ড শুনানিশেষে বিচারক ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার ১২ দিনের রিমান্ড চেয়ে লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। নারায়ণগঞ্জ শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকাতে অবস্থিত র্যাব-১১-এর স্পেশাল ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির এএসপি রবিউল ইসলাম জানান, ত্বকী হত্যার ব্যাপারে তথ্য জানতেই লিটনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর আগে ২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় ইউসুফ হোসেন লিটন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে লিটন উল্লেখ করেন, তার সঙ্গে রাজীব নামের একজনের গার্মেন্টের ব্যবসা রয়েছে। গত ৬ মার্চ রাতে রাজীব ছিল জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা হাজী রিপনের ছেলে সীমান্তের বাসায়। রাজীবের কথামত তার কাছ থেকে ব্যবসার টাকা আনতে সে রাতে সীমান্তের বাড়িতে যায় লিটন। সীমান্তর বাসায় গিয়ে আমি অপু, ভ্রমর (গত ১৫ জুলাই গুম), কালাম শিকদার (গত সোমবার হতে নিখোঁজ), সীমান্ত ও আর একটি ছেলেকে দেখতে পাই। ওই ছেলেটিকে আমি চিনি না। একটু পরে আমি পাশের ঘরে যাওয়ার পর মারধরের শব্দ শুনতে পাই। শব্দ শুনে আমি এসে দেখি রাজীব, ভ্রমর ওই ছেলেটিকে গজারির লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। পরে আমি রাজীবের কথায় ওই ছেলেটির গায়ে লাঠি দিয়ে ২-৩টি আঘাত করি। মারধরের কারণে ছেলেটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কালাম শিকদার বুকের উপর উঠে ছেলেটিকে গলা টিপে ধরে। ৩-৪ মিনিট পর ছেলেটি মারা যায়। তখন রাত ১১টা। পরে জানতে পারি ওই ছেলেটির নাম ত্বকী। পরে আমি, কালাম শিকদার, ভ্রমর ত্বকীর লাশ ভ্রমরের গাড়ির পেছনে তুলে নিয়ে শহরের চারারগোপ এলাকায় গিয়ে আমরা ৩ জনেই ত্বকীর লাশ নৌকায় তুলি। নৌকাতে করে লাশ নিয়ে কুমুদিনী খালে যাই। তারপর ব্যাগ থেকে লাশ বের করে আমরা খালে ফেলে দেই। ওই সময় লাশের শরীরে প্যান্ট, শার্ট ছিল। পায়ে চামড়ার স্যান্ডেল ছিল। তারপর আমরা বাসায় চলে যাই। কালাম শিকদার ও ভ্রমর গাড়িতে উঠে চলে যায়। গত ৬ মার্চ নিখোঁজের দুইদিন পর ৮ মার্চ শহরের চারারগোপ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ত্বকী হত্যা মামলায় রিফাত, সীমান্ত ও ইউসুফ হোসেন লিটনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১৫ জুলাই লিটন উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের জামিন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে বের হওয়ার পর র্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী লোকজন তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে। এরপর থেকে লিটন নিখোঁজ ছিল। ২৯ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে র্যাব-১১ তাকে ৫০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির আবেদনে হাইকোর্টের আদেশে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ত্বকী হত্যা মামলা ২০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এ হস্তান্তর করে পুলিশ।