নীলফামারীতে দুই দলেরই লক্ষ্য কোন্দল অবসান

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৪
নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে নীলফামারী জেলার চারটি আসনে। তবে কোন দলই এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে বসে নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। শুরু করে দিয়েছেন নিজেদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা পোস্টার, ফেস্টুন আর ব্যানারের মাধ্যমে নিজেদের জানান দিচ্ছেন। অংশ নিচ্ছেন সভা-সমাবেশ ও আলোচনা সভায়। প্রধান দু’ দলেই রয়েছে গ্রুপিং ও কোন্দল। তবে জেলার শীর্ষ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগেই এগুলো মিটিয়ে ফেলা হবে। মহাজোট সরকারের সাড়ে চার বছরে জেলার মানুষের কিছু চাওয়া-পাওয়া পূরণ হলেও এখনো পূরণ হয়নি অনেক গণদাবি। জেলার চারটি আসনই মহাজোটের। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ সরকারের নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দূর হয়েছে মঙ্গা নামক অভিশাপ। নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) : এই আসনে গত নির্বাচনে মহাজোটের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাফর ইকবাল সিদ্দিকী নির্বাচিত হন। তিনি সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে নিজের অবস্থান মজবুত করেছিলেন। কিন্তু অতি সম্প্রতি চিলাহাটি পর্যন্ত আন্ত:নগর ট্রেন নীলসাগর চলাচলের সকল প্রস্তুতি নেয়া হলেও দুই এমপির মধ্যে উদ্বোধন নিয়ে বিরোধে জাফর ইকবাল সিদ্দিকীর ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতি প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এই আসনের বিএনপির প্রার্থী হবেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন বিভিন্ন মামলা-মোকাদ্দমার কারণে এখন রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকলেও কিছু দিনের মধ্যে তিনি এলাকায় আসবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি বাবার বদলে বিএনপি’র প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে নাম শোনা যাচ্ছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ড. হামিদা বানু শোভা, সাবেক রাষ্ট্রদূত আমিনুল হোসেন সরকার, কৃষিবিদ ড. আবু ইনামদার, নীলফামারী জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন। সাবেক মন্ত্রী শফিকুল গনি স্বপনের ছেলে ব্যারিস্টার জেবেন রহমান গণি (ন্যাপ) ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। নীলফামারী-২ (সদর) : বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এই আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার পরপর ৬ বার নির্বাচিত মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন। গতবার এই আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দিলেও এবার আসনটি জোরালোভাবে চাইবে বিএনপি। বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য সচিব শামসুজ্জামান জামান বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ কিংবা আলমগীর সরকারের ও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন প্রার্থী হবেন এই রকম ঘোষণা আগেই দেয়া হয়েছে। জামায়াত থেকে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু ও জামায়াত নেতা মুয্যাম্মিল হক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। নীলফামারী-৩ (জলঢাকা- কিশোরীগঞ্জ) : এই আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের। যদিও এই আসনটি বরাবরই জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দখলে রেখেছিল। গত নির্বাচনে স্কুলশিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ সরকারকে প্রার্থী করে সুধিধা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তাই সকল ধর্ম-বর্ণের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে মনোনয়ন না দিলে আওয়ামী লীগকে বিগত দিনের পরিণতি মেনে নিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এই আসনে আওয়ামী লীগের আনছার আলী মিন্টু, সাবেক আমলা রশীদুল কবীর, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। জলঢাকা- কিশোরীগঞ্জ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে রংপুর বিএনপির অন্যতম নেতা শামসুজ্জামান শামু ও নীলফামারী জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য সনেট চৌধুরী মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এই আসনে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের বোন মেরিনা রহমান কিংবা তার ভাগ্নে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে পারেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আজিজুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এই আসনে যেই মনোনয়ন পাবেন, তাকে জামায়াত প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। তবে নিবন্ধনের কারণে জামায়াত প্রার্থী দিতে না পারলে জোট ও মহাজোট প্রার্থীর মধ্যে এই আসনে লড়াই হবে। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর- কিশোরীগঞ্জ): এই আসনটি ব্যবসা প্রসিদ্ধ সৈয়দপুর উপজেলা ও কিশোরীগঞ্জের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত। অবাঙালি অধ্যুষিত সৈয়দপুর শহরের বিহারী ভোটারদের উপরই জয়- পরাজয় অনেকটা নির্ভর করে। এ আসনে গেলবারের আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) এএ মারুফ সাকলানের প্রার্থিতা পরিবর্তনের কোন পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। দলের কতিপয় নেতা-কর্মী কাবিখা, কাবিটা, টিআর মালামাল নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় বর্তমান এমপির কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। নানা কার্যকলাপে স্থানীয় নেতারা তার উপর নাখোশ। তবে অন্যান্য বারের মতো আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল, ব্যারিস্টার মোখছেদুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য আমেনা কোহিনূর আলম মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার প্রার্থী হবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তিনি সৈয়দপুর- কিশোরীগঞ্জ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ করে সৈয়দপুরকে শিক্ষা নগরী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন ও একগুয়েমির কারণে দলের একটি অংশ তার কাছ থেকে দূরে রয়েছেন। এছাড়া দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বেবী নাজনীন বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন বলে শোনা গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী নীলফামারী-৪ আসনে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান।