লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসন খান হত্যা মামলায় পুলিশ সমপ্রতি আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামিদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এদিকে চার্জশিট থেকে নাম বাদ পড়া আসামি রহিম বেপারী মোবারকের মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার দিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি লৌহজং থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি।
জানা গেছে, লৌহজং উপজেলার মেদিনী মন্ডল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজির পাগলা গ্রামের মোবারক হোসেন খান গত ১৮ অক্টোবর রাতে নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। তার মেয়ে দিয়ার সামনেই স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে গুলি করে হত্যা করে। দিয়া বাদী হয়ে লৌহজং থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন সাহাবুদ্দিন খান বাবু, কামরুল ইসলাম বেপারী, রহিম বেপারী, আবু সাইদ বেপারী, উজ্জল শেখ, ইব্রাহিম বেপারী, নাসিরুল বেপারী, মোবাইল কাদের, লাবু ও লরেন্স।
পরে পুলিশ হান্নান নামে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে। হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন বাবু, কামরুল ইসলাম, মোবাইল কাদের ও সুজন এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু পুলিশ চার্জশিটে সাহাবুদ্দিন খান বাবু, কামরুল ইসলাম বেপারী ও হান্নানকে অভিযুক্ত করে বাকি সব আসামিকে চার্জশিট থেকে খালাস দিয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লৌহজং থানার এসআই জুলহাস উদ্দিন জানান, হান্নান জবানবন্দিতে মোবাইল কাদের ও সুজনের নাম উল্লেখ করলেও তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
আসামি রহিম বেপারী ঈদের আগের দিন ৮ আগস্ট মোবাইলে ফোনে দিয়া ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। দিয়া দাবি করেন, তিনি ওই দিনই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে লৌহজং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। জিডি না নেয়া প্রসঙ্গে এসআই শাহজাহান বলেন, জিডির লেখায় অস্পষ্টতা থাকায় জিডি নেয়া হয়নি। এর বদলে একটি লিখিত অভিযোগ নেয়া হয়েছে।
