মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের মনু নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে উত্পাদিত আখের গুড় যুগ যুগ ধরে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে। আখ চাষ ঐ এলাকার চাষিদের কাছে অর্থকরী ফসল হিসাবে বিশেষ ভাবে সমাদৃত রয়েছে। গুড়ের মূল্য বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে এলাকায় আখের উত্পাদন মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে মনু নদীর দুই তীর প্লাবিত করে যে পলি মাটি নদী তীরের বিস্তীর্ণ কৃষি ভূমিতে প্রলেপ দেয়ার ফলে আখ চাষে বাড়তি কোন সারের প্রয়োজন হত না। আখ চাষিরা শুধুমাত্র উন্নত জাতের চারা রোপণ করেই মাঠের পর মাঠ আখ চাষ করে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে পারেন। গুড় বিক্রি করে আখ চাষিরা সাড়া বছরের সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সেই পুরাতন চিত্রপট কিছুটা বদলে যাচ্ছে । গত ৩ বছর যাবত্ মনু নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে না, দু-কূল চাপিয়ে পলি মিশ্রিত পানি নদী তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে প্লাবিত করে না। মনু নদীর তীরে আখের রস ও গুড় জ্বাল দিতে দিতে ইসমাইল পুর ও গাজীপুর গ্রামের আখ চাষি আব্দুল মতিন, আব্দুল সালাম, প্রদ্যুত্ সেন, লিয়াকত আলী , হাজী সাব্বির আলী ও শেখ আবদুর রৌফ জানান, নদী তীরে পলি মাটি না উঠায় গত ৩ বছর যাবত্ আখ চাষ হ্রাস পেতে শুরু করলেও জৈব সার প্রয়োগ করে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন।
