গণতন্ত্র স্থানীয় সরকার ও নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়ন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫৭
গণতন্ত্রের শেষ কথা হলো দেশের জনগণ। জনগণের সরকার, জনগণের শাসন। ১৮৬৩ সালে গেটিসবার্গে দেওয়া ভাষণে আব্রাহাম লিংকনের কালজয়ী ঘোষণা থেকে গণতন্ত্রের মর্মবাণী সত্যিকারভাবে উপলব্ধি করা যায়। গভর্নমেন্ট অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল। অর্থাত্ গণতন্ত্রের প্রথম ও শেষ কথা হলো জনগণ। গণতন্ত্রের চর্চার জন্য কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারের সফল উপস্থিতি প্রয়োজন। দেশের স্থানীয় সরকার যত শক্তিশালী হবে গণতন্ত্রের ভিত্তিও ততো মজবুত হবে। এখনো বাংলাদেশের প্রায় ৭০% মানুষ গ্রামে বাস করে। সুতরাং স্বাধীন ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ছাড়া গণতন্ত্র কখনো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না, গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। স্থানীয় সরকার বলতে স্থানীয় জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত এমন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে বুঝায় যাদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট স্বীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। স্থানীয় সরকার বলতে কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শাসনকে বুঝায় যা কেন্দ্রীয় সরকারেরই একটি সমপ্রসারিত অংশ যেমন ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন। এ সমস্ত সংস্থা কোন নির্দিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে। গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাথমিক স্তরে ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থান। গ্রামীণ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্ব অপরিসীম। শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা এবং সকল কার্যক্রমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। গ্রামের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। স্থানীয় জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয়ভাবে উদ্ভূত সমস্যাবলীর সুষ্ঠু সমাধানসহ এলাকার জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয় সরকার জনগণের চাহিদা মোতাবেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে। স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ বর্তমানে বলবত্ আছে। বিদ্যমান এ আইনে ১০৮টি ধারা রয়েছে। বর্তমানে সকল ইউনিয়ন পরিষদ “স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯” দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান, নয়জন সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে তিনজন মহিলা সদস্যসহ ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। এ আইনে প্রথমবারের মত ওয়ার্ড পর্যায়ে বছরে দুটি ওয়ার্ড সভা আয়োজনের বিধান রয়েছে। উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভায় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাত্সরিক বাজেট প্রণয়ন করা এবং ওয়ার্ড সভায় অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন ও আলোচনা করার নির্দেশনা রয়েছে। বিদ্যমান এ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন হলে উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। সাধারণ মানুষকে বৈষম্যহীনভাবে উন্নয়নের সুফল পেতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার যে আইন রয়েছে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন দরকার। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে দেশে ধনী গরীবের বৈষম্য কমে আসবে। অতীতে কোন সরকারই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। উন্নয়নের স্থানীয় চাহিদাগুলো যাচাই বাছাই না করে কেন্দ্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে। ফলে দেশের লাখ লাখ মানুষ তাদের সমস্যা ও প্রয়োজন মোতাবেক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয় অনেক ক্ষেত্রে। বিদ্যমান স্থানীয় সরকার আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করে স্থানীয় মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের সকল মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানো সম্ভব। আর এ উন্নয়ন সুবিধা পেতে হলে গ্রামের মানুষকেও স্থানীয় সরকার সমপর্কিত বিদ্যমান আইন সমপর্কে সচেতন হতে হবে। মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আর তা হলেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান উপজেলা পরিষদকেও গতিশীল করতে হবে। স্থানীয় উন্নয়নে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা এবং অভিন্ন কল্যাণের জন্য জনগণের ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দেয়া। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় রাজনীতির প্রভাব বেড়েই চলছে, যার ফলে ভোটাররা ও অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় সরকারসমূহ প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছেনা। স্থানীয় সরকারের উপর রাজনৈতিক প্রভাব কমানো দরকার। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। স্থানীয় সরকারসমূহে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এ উদ্যোগ অত্যন্ত চমত্কার ও প্রশংসনীয় এতে সন্দেহ নাই। তবে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখার আরও অনেক বেশি সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। এজন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার। বাংলাদেশ এখন অমিত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। অনেক বিদেশি বিশ্লেষকের মতে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে এক রহস্যময় বিস্ময়। অনেক সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। আমাদের এগিয়ে যাবার পিছনে নারীদের অবদানও অনস্বীকার্য। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০০ সালে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের সরকার প্রধানরা উন্নয়নের আটটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন, সার্বজনীন শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন, সংক্রামক রোগ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং টেকসই পরিবেশ। এ আটটি বিষয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এম ডি জি) দারিদ্র বিমোচন, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার কমানোসহ বেশ কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা, উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতসহ কয়েকটি সূচকে দেশ এখনো পিছিয়ে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অগ্রগতির প্রতিবেদন ২০১২তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। বাকি দুই বছরে ( ২০১৫ সালের মধ্যে ) নারীর ক্ষমতায়নসহ এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকারী বেসরকারি পর্যায়ে অনেক বেশি সচেষ্ট হতে হবে এবং উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বাকি সময়ের মধ্যে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না ও হতে পারে। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল যা দুই বছর আগে অর্জিত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকেও নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য উচ্চ শিক্ষায় ও নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। তা না হলে এ অর্জন ধরে রাখা যাবে না। নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নে সংসদে নারীদের ৩৩ শতাংশ আসন বরাদ্দ রাখার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কি না তা নিয়ে ও সংশয় রয়েছে। এ অর্জন একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়। সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে সকলের মানসিকতার একটি পরিবর্তন আনতে হবে। স্থানীয় সরকার সমূহের মতো জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে নারীদের সরাসরি ভোটের বিধান রাখলে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে, নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নে আর এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে বলে মনে করি। পাশাপাশি জনমনে গণতান্ত্রিক চেতনাও আরও বেশি শাণিত হবে। আমাদের দেশের নারীরা এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। সকল ক্ষেত্রে মানব সমপদের অর্ধেক নারী। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন - “বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের জন্য নারীদের ক্ষমতায়ন জরুরি। নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নের কার্যকর প্রয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও অর্থবহ গণতন্ত্র সম্ভব নয়। নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে পুরুষশাসিত সমাজে নারী অসহায় থাকবে না। নীতি নির্ধারণী স্তরে ভূমিকা পালন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাদারির সঙ্গে কাজ করে দায়িত্ব পালন করতে হলে নারীর উচ্চ শিক্ষার কোন বিকল্প হয় না। প্রকৃতপক্ষে নারীর ক্ষমতায়ন, নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়ন এর অনুকূল ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি না করে গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও বিকাশ সুদূর পরাহত। আমাদের জাতীয় কবি কত সুন্দর করে বলেছে- জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান, মাতা ভগ্নি ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান। চরণ দুটি প্রমাণ করে জগতের সকল সাফল্য, সকল বিজয়ে কোন না কোনভাবে নারীর অবদান আছে। নারী মমতাময়ী আশ্রয়ে শিশুকে বড় করেছে, পুরুষের পাশে থেকে প্রেরণা যুগিয়েছে, নারীর সাহসে পুরুষ আকাশ জয় করেছে, হিমালয়ে উঠেছে, বিভিন্ন বিষয়ে নারী পালন করছে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা । বাংলাদেশ নারী নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হলেও এ দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নও দেশের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। দেশের সরকার প্রধান, বিরোধীদলের প্রধান, স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা অধিষ্ঠিত রয়েছেন । বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রধান হিসেবে ও নারীদের অংশগ্রহণ আমাদের সামনে দৃশ্যমান। প্রশ্ন হচ্ছে নারীদের এতো ক্ষমতায়ন বা নির্বাচিত নারীদের ক্ষমতায়নের পরেও কি এ দেশের নারীর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে ? নারীদের প্রতি নির্যাতন, বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে ? বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও প্রকৃত নারীমুক্তি এখনো আসেনি, শুধু নারীর ক্ষমতায়নেই নারীমুক্তি আশা করা যায় না। নারীমুক্তির জন্য পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন করতেই হবে। নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নে নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। কারণ, নেতৃত্ব একটি ব্যক্তিক ও সামষ্টিক বিষয়। নেতৃত্ব ব্যক্তির সেই কাঙ্ক্ষিত গুণাবলী যা সমষ্টির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের উদ্দীপ্ত করতে পারে। ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের অগ্রপথিক আমেরিকান লেখক C I Barnard (সি আই বার্নার্ড ) নেতৃত্বকে রাজনৈতিক অভিধায় অভিষিক্ত করতে গিয়ে বলেন “Leadership refers to the quality of behavior of individuals where-by they guide people a nation by their activities in an organized effort”। নেতৃত্ব হলো ব্যক্তি সমষ্টির আচরণের গুণগত মান যার কার্যধারায় তারা জনগণ বা একটি জাতিকে গঠনমূলক উদ্যোগে পরিচালনা করেন। নারী নেতৃত্বের বিকাশ ছাড়া সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত নারীদের ক্ষমতায়নে দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন নারী শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা,লক্ষ্য অর্জনের যোগ্যতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মানসিকতার পরিবর্তন এবং ধর্মান্ধতা থেকে মুক্তি। আশার কথা হচ্ছে নির্বাচিত নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলো ঠিকমত কাজ করলে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে, মানবাধিকার আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহিমূলকভাবে ঠিকমতো কাজ করে গেলে, সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের চর্চা হলে আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে আরও বহুগুণ। পশ্চিমাদের ধারণা অনুযায়ী আগামীতে অতিসত্বরই দেশটি উন্নত রাষ্ট্রের সমপর্যায়ে চলে যাবে ইহা নিঃসন্দেহে বলা যায়। লেখক : আইন কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক ঋণ প্রশাসক পূবালী ব্যাংক লিমিটেড,আঞ্চলিক কার্যালয়, মৗলভীবাজার।