দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর গঙ্গাচড়ার ভিন্ন জগত্

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৭
হাজারো কাজের মাঝে চাই একটু আনন্দ-বিনোদন । শত ব্যস্ততার মাঝেও হাঁপিয়ে উঠা মানুষগুলো চায় একটু বিনোদন। তাই তো দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। রংপুরের গঙ্গাচড়ার এরকম একটি বিনোদন কেন্দ্রের নাম ভিন্নজগত্। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই ভিন্নজগত্ সাজে নতুন সাজে। হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় এখন মুখর এই বিনোদন কেন্দ্র। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র লিটন মিয়া এই প্রথম এসেছে ভিন্নজগতে। সঙ্গে আছে তার পিতা আব্দুস সালাম। সঙ্গে আরো আছে শিশু সবুজ, শান্তনাসহ পনেরজন। এরা এসেছে মাইক্রোবাসে। লিটন বলে, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। বেশ হাসি-খুশি মনে হলো তাকে। গঙ্গাচড়ার ছোট্টমণি রিয়া এসেছে তার বা্বা-মার সাথে। খুশিতে বেশ ডগমগ। হাতি, ঘোড়া, ময়ূর দোলনায় উঠার জন্য মা-বাবার কাছে বায়না ধরছে। বাবা তার আবদার এক এক করে পূরণ করছেন। তার বাবা রহমত বললেন, হাজার হোক ছোট মানুষ। লিটন, সালাম, সবুজ, শান্তনা, রিয়ার মতো হাজার হাজার নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী দর্শনার্থী আসছে ভিন্নজগতে। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের পদচারণায় এখন মুখরিত ভিন্নজগত্। কেউবা এসেছে কার, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলে, কেউবা এসেছে হেঁটে। শুধু একটুখানি আনন্দ উপভোগ করার জন্য। রংপুরের অবহেলিত গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের গঞ্জিপুর নামক স্থানে একদম মনোরম পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে বিনোদন কেন্দ্র ভিন্নজগত্। উত্তরাঞ্চলের সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের বিনোদনের স্থান হিসেবে ভিন্নজগত্ ইতিমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে রংপুরের বিশাল এ আয়োজন। ভিন্নজগতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপকরণ হচ্ছে প্লান্টেরিয়াম। এছাড়া এখানে আছে খেলাধুলার সরঞ্জামাদিসহ মিউজিক চ্যানেল, সংযোজিত নির্দিষ্ট পিকনিক স্পট, স্কিল টেস্ট, রোবট জোন, পাখিদের অভয়ারণ্য, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত শপিং মল, ৫শ আসনবিশিষ্ট আধুনিক কনফারেন্স কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, সুইমিংপুল ও মসজিদ। শিশু-কিশোরদের জন্য এখানে নির্দিষ্ট সীমানায় সংযোজন করা হয়েছে ঢাকা শিশু পার্কের আদলে শিশু কানন, মেরি-গো-রাউন্ড, হেলিকপ্টার ফ্লাই জোন, নাগরদোলা, ক্যাঙ্গারু মুভিং, স্পাইডার জোন, বাম্পার কার, রেসিং হর্স, সি-প্যারাডাউস, মকি ট্রেন ও বিশাল আকৃতির নিজস্ব লেকে নৌ-ভ্রমণের ব্যবস্থা। ৩ শতাধিক একর জমির উপর নির্মিত এ বিনোদন কেন্দ্র ২০০২ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।