জামায়াতের হরতালের প্রথম দিনে গতকাল মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও হাটে নির্বিচারে ঘরবাড়ি, দোকান ও মোটর সাইকেলে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সকালে টগড়া ফেরিঘাট এলাকায় দুটি রিকশা ভাঙচুরের পর জামায়াত-শিবির কর্মীরা বাড়ইখালীতে রাস্তায় আওয়ামী লীগ নেতা খসরু খলিফার মোটর সাইকেল জ্বালিয়ে দেয় এবং পরে জিয়ানগর কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাওন তালুকদার ও কর্মী শাহীনের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় কয়েকটি গাছ কেটে একটি গ্রামীণ সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এ খবর পেয়ে পাড়েরহাট ও শংকরপাশা থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের শতাধিক কর্মী-সমর্থক বাড়ইখালী, টেংরাখালী, ষোলঘর, নয়ঘর, নলবুনিয়া গ্রাম ও বৌডুবি বাজারে হামলা চালায়। হামলাকালে সাতটি বাড়ি ও পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ষোলঘর গ্রামের মুজিবর রহমান খান, হাফেজ আলাউদ্দিন, শাহবুদ্দিন খান ও টেংরাখালীর নাসির মুন্সির ঘরে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট করা হয়। মুজিবর খান জানান, ১০০/১৫০ জন লোক সকাল ১০টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়ি আক্রমণ করে। এ সময় ঘরে মহিলা ও শিশুরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ঘরের দরজা ও জানালা ভেঙে আসবাবপত্র চুরমার করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা মূল্যবান কাপড়-চোপড়, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে মুজিবর কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন। তবে তার ছেলে রফিক এক সময় ছাত্রলীগ করতো। পাশাপাশি প্রতিবেশী জামায়াত কর্মী নাসির মুন্সির বাড়িতেও একইভাবে হামলা করা হয়। নাসির মুন্সির অভিযোগ এ সময় তার ঘর ভেঙে লুটপাট ও আসবাবপত্র তছনছ করে লুট করা হয়। তার অভিযোগ হামলাকালে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব ছিল।
হামলাকালে যেসব দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে তার মালিক হলেন বৌডুবি বাজারে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি হেমায়েত শরীফ, জসিম ও জামায়াত কর্মী মোজাম্মেল, টেংরাখালীর মনির ও নলবুনিয়ার শাহাবুদ্দিন মোল্লা। বৌডুবিতে হরতাল বিরোধীরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি ও ঈদ শুভেচ্ছা সম্বলিত একটি বিলবোর্ড ছিন্নভিন্ন করে। হরতাল বিরোধীদের হামলার পর এলাকায় ব্যাপক ভীতির সৃষ্টি হয়। এরপর র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুপুরের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ সময় পাড়েরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে আহত করা ও মটর সাইকেল জ্বালিয়ে দিয়ে হরতালকারীরা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঘরবাড়িতে হামলাকারীদের তিনি নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম হাওলাদার মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, সরকার দলীয় লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতাসহ
১০ জন জেল হাজতে
ঈদের পরের দিন জিয়ানগর উপজেলার চন্ডীপুর-চর বলেশ্বর গ্রামে বন্দুকের গুলিতে দুই তরুণ আহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা হাওলাদারসহ ১০ জনকে আদালত জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য গত ১০ আগস্ট একটি গ্রাম্য দলাদলির জের ধরে মোস্তফা প্রতিপক্ষের উপর সদলবলে হামলা চালান। এ সময় বন্দুক মোস্তফা নামে পরিচিত উক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নিজের লাইসেন্সকৃত বন্দুক দিয়ে গুলি ছুঁড়লে উক্ত তরুণদ্বয় গুরুতর আহত হয়। আহতরা জিয়ানগরের বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভাতিজা। এ ঘটনায় মোস্তাফিজ বন্দুক মোস্তফাসহ ১৩ জন নামধারী ও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেন।
