টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপত্যের সাক্ষী ‘পরীদালান’ নামে খ্যাত হেমনগর রাজবাড়ি অযত্নে অবহেলায় এর সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।
জানা যায়, উনবিংশ শতাব্দীতে গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নে যমুনা নদীর তীরে গড়ে উঠে সুবর্ণখালি নদীবন্দর। এ বন্দর দিয়েই বৃহত্তর ময়মনসিংহের জমিদাররা নদীপথে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতো ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতো। জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৮৮৫ সালে সুবর্ণখালি বন্দরের অদূরে শিমলাপাড়া মৌজায় গড়ে তোলেন অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী সমৃদ্ধ দ্বিতল রাজবাড়ি। বাড়ির মূল ফটকে সাদা মার্বেল পাথর খচিত উড়ন্ত পরীর আবক্ষ মূর্তি জুড়ে দেয়ায় রাজবাড়ির নামকরণ হয় পরীদালান। দিল্লী ও কলকাতার কারিগর ও রাজমিস্ত্রি দিয়ে ইটসুরকির উপর দামি কড়ি লাগিয়ে নির্মিত হয় সুন্দর এই রাজবাড়িটি। প্রায় ৬০ একর জায়গা জুড়ে বিশ ফুট উঁচু লাল দেয়ালে ঘেরা রাজবাড়ির ভেতরে ছিল বিরাট দীঘি ও মিনি চিড়িয়াখানা। রাজবাড়ির সামনে ছিল বিশাল পূজা মণ্ডপ, নাট্যশালা, রাজকাচারি, হাতিশালা ও অতিথি ভবন। ১৯০০ সালে রাজবাড়ির অদূরে নির্মাণ করা হয় হেমনগর শশীমুখি উচ্চবিদ্যালয়।
১৯৪৬ সালের সামপ্রদায়িক দাঙ্গার সময় জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী ও পরিবারের সদস্যরা রাতের আঁধারে পালিয়ে কলকাতা চলে যান। দেশ ভাগের পর পরীদালান বাদে সব কিছুই বেহাত হতে থাকে। বেদখল হয়ে যায় দীঘি, অতিথিশালা, স্থাপনা ও মূল্যবান দ্রব্যাদি। ১৯৭১ সালে এ রাজবাড়ি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি। সমপ্রতি এ রাজবাড়িকে ঘিরে কলেজ স্থাপিত হলেও রাজবাড়ির সৌন্দর্যহানি করে নির্মিত হয় কলেজের নতুন ভবন। মেরামত ও সংস্কার না করায় রাজবাড়ির মূল ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। অবহেলা অনাদরে পরীদালান সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব হারাচ্ছে।
