মেলায় চাঁদার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ১১ বছরের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সায়মন নামের গুলিবিদ্ধ ঐ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় চিকিত্সা চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারের ডিআইটি মার্কেটের তৃতীয় তলায়। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ ঐ শিশুর বাবা জাহাঙ্গীর আলম সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লক্ষ্মীবাজারের ডিআইটি মার্কেট ও এর সামনে প্রতিবছর ঈদে মেলায় আয়োজন করা হয়। এলাকার যুবলীগের এক নেতা পুলিশের অনুমতি নিয়ে ৪ দিনের জন্য এই মেলার আয়োজন করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সূত্রাপুরের প্রতাপদাস লেনের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর তার ছেলে সায়মনকে নিয়ে ঐ মেলায় ঘুরতে আসেন। ডিআইটি মার্কেটের তৃতীয় তলায় সূত্রাপুর থানা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। মেলায় আগতরা জানান, চাঁদার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একে অপরকে ধাওয়া দেয়। পরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি করে।
সূত্রাপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় যুবলীগ নেতা রাজীব ওরফে জামাই রাজীব পিস্তল উঁচিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে আনোয়ার আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি ছোঁড়ে। এসময় মেলায় আগত নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঐ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শিশু সায়মন গুলিবিদ্ধ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, যুবলীগের এক নেতা পিস্তলের বাট দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ারের মাথায় আঘাত করেন। পুলিশ দাবি করেছে, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ শিশু সায়মনকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই শিশুর মাথায় অস্ত্রোপচার করেন চিকিত্সকরা। কিন্তু তার মাথা থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রাপুর থানার ওসি আরো জানান, ডিআইটি মার্কেটে ঈদ মেলা দীর্ঘ দিন ধরে হয়ে থাকে। এ কারণে এলাকাবাসীর পক্ষে যুবলীগের একজন নেতা পুলিশের কাছে ঐ মেলা আয়োজনের জন্য আবেদন করেন। পুলিশ ৪ দিন মেলা করার অনুমতি দেয়।
এদিকে, ঘটনার পর বুধবার বিকালে সায়মনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মারধর ও হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। মামলায় যুবলীগ নেতা জামাই রাজীবসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৬/৭ জনকে আসামি করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রেজাউল হাসান জানান, অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
