আফরোজার ভবিষ্যত্ বাধা হয়নি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায়

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৭
বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বাংলাদেশি কিশোরী আফরোজার কারণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কাঁটাতারের উভয় পাশে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকলেও বিজিবি ও বিএসএফ’কে এক কাতারে এনে দাঁড় করাচ্ছে আফরোজা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি ভারতের কলকাতায় আটক বাংলাদেশি অভিভাবকহীন কিশোরী আফরোজার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আফরোজা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তার লেখাপড়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে বিজিবি। ইতিমধ্যে বিএসএফ’র সাথে বিজিবি কর্তৃপক্ষ কথাবার্তা বলেছে। গতকাল বুধবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর দিয়ে বলেছে বিএসএফ’র অনুরোধে বিজিবি সম্মতি প্রদান করায় আফরোজার ভবিষ্যত্ নিয়ে আর কোন সংশয় নেই। মনোয়ারা বেগম ছেলে মুন্না ও মেয়ে আফরোজাকে নিয়ে ২০০৯ সালে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রবেশ করেন। তাদের বাড়ি নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানার দাসপাড়া গ্রামে। সে সময় বিএসএফ অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দু’সন্তানসহ মনোয়ারাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ আদালতের নির্দেশে নয় বছরের মুন্নাকে পাঠিয়ে দেয় সমাজকল্যাণ অধিদফতরের হোমে। আর মনোয়ারার দু’বছরের কারাদণ্ড হয়। মায়ের সাথে পাঁচ বছরের আফরোজাকে যেতে হয়েছিলো বহরমপুর কারাগারে। আর কারাগারেই অসুস্থ হয়ে মনোয়ারা মারা যান। পরে শিশু আফরোজার দায়িত্ব নেন কারা অধিদফতরের তত্কালীন আইজি বংশীধর শর্মা। এদিকে সমাজকল্যাণ অধিদফতর আফরোজার বড় ভাই মুন্নাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু শিশু আফরোজাকে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় আইজি বংশীধর শর্মা আফরোজাকে রানাঘাটের একটি বেসরকারি হোমে রাখেন। শুরু হয় শিশু আফরোজার নতুন জীবন। গত ২০ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফরোজাকে বাংলাদেশে পাঠানোর লিখিত অনুমতি প্রদান করে। আইজি বংশীধর শর্মা আফরোজাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ পাওয়ার পর উত্কণ্ঠার মধ্যে ছিলেন। বড় হতে না হতেই যদি আফরোজা আবার পাচার হয়ে যায়। তার পড়াশোনা চালানো ও নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বিজিবি’র ডিজি’র নিকট চিঠি লেখেন। জবাবে বিজিবি’র ডিজি মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ লিখেছেন, আফরোজার বাড়ি, তার বাবা, দাদা এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেছে। তবে আফরোজার পড়াশোনা ও নিরাপত্তার যথাযোগ্য ব্যবস্থা করবে বিজিবি। বিজিবি’র জবাব পাওয়ার পর এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিএসএফ শিগগিরই আফরোজাকে সীমান্তে এনে বিজিবি’র হাতে তুলে দেবে।