ভরা যৌবনেও ভালো নেই যমুনা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৭
শীর্ণকায়া যমুনার এখন ভরা যৌবন। চোখ মেলে তাকালে দেখা যাবে শুধুই পানি আর পানি। এপাড় থেকে তাকালে ওপাড় খুঁজে পাওয়া কঠিন। দুকূল ছাপিয়ে গ্রামের পর গ্রাম, রাস্তা-ঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে যমুনার পানি। এসব দেখে যে কেউ বলবে যমুনার বিশালতার কথা। আর যারা রয়েছে প্রবীণ তারা তাদের স্মৃতি হাতরিয়ে বলে বসবে এক সময় এই যমুনার বুক দিয়ে চলাচল করত বিখ্যাত বেরেলিড এন্ড হাউস সন্স কোং এর বড় বড় জাহাজ। কলকাতা আর আসাম যাতায়াতের প্রধান রুট ছিল এই যমুনা। উত্তাল যমুনার তীব্র স্রোতে আর ভয়াল রূপ আজো তাদের মনের মাঝে গেঁথে থাকলেও যমুনার সেই স্রোত আর ভয়াল রূপ এখন আর নেই। নদীর তলদেশ ভরে কমে এসেছে এর গভীরতা। আর তাই ভরা এই যৌবনে ও বড় নৌযান চলাচল করতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাসিক নদী বিজ্ঞপ্তি ৪৫/১৩ তে বলা হয়েছে পাটুরিয়া থেকে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত ৫০ কিঃ মিঃ নৌ পথের মোল্লারচর শোলের গভীরতা ৩.৬৫ মিঃ যার চলাচলের ড্রাফট সীমা ২.৭৪ মিটার। অন্যদিকে পাটুরিয়া-আরিচা-সিরাজগঞ্জ- দৈখাওয়া ২৮৬ কিঃ মিঃ নৌপথে ফেইচকারচর শোলে ২.০৫ মিটার যার ড্রাফট সীমা ১.৮৩ মিঃ এ দুই রুটে শুধুমাত্র দিনে নৌযান চলাচল করার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী -নৌপথে সর্বোচ্চ ২.৪৩ মিঃ ড্রাফট সীমার নৌযান গুলোকে পূর্ণ জোয়ারের সুবিধা নিয়ে কর্তৃপক্ষের পাইলটসহ সতর্কতার সাথে চলাচল করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাটুরিয়া-আরিচা-সিরাজগঞ্জ-দৈখাওয়া নৌপথে বর্তমানে পানি ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শোলগুলো জেগে থাকায় কাউলিয়া হতে সাহেবের আগলা পর্যন্ত নৌপথে শোলগুলো অতিক্রম করার সময় জাহাজসমূহ নিরাপদ দূরত্ব রেখে খুব সাবধানতার সাথে চলাচল করবে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর পিলার নং-৫ ও ৬ এর মধ্যে বরাবর দিয়ে জাহাজসমূহ অতিক্রম করবে এবং স্রোতের চেয়ে ইঞ্জিনের শক্তি কম হয় তাহলে পানি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অতিক্রম না করে অপেক্ষা করতে হবে। ভরা যৌবনে যমুনা যদি এ অবস্থা হয় তাহলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে যমুনার কিরূপ দেখবো আমরা তারই অপেক্ষায়।