স্বাধীনতা অর্জন বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসে দিয়েছে অমরতা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৯
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুকে ভয়াবহ প্রতিকূল দেশীয়-আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। চারপাশের সবাই যেন আত্মত্যাগের বদলে রাতারাতি নিজস্ব প্রাপ্তির মহড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এসব কিছুই বঙ্গবন্ধু তার হূদয়ের বিশালতা দ্বারা মোকাবেলা করতে চেয়েছেন; সবসময় যে সফল হয়েছেন তাও নয় কিন্তু তার অসামান্য নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন তাকে বাংলার ইতিহাসে চির-অমরতা দান করেছে। বাংলা একাডেমী আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার একাডেমীর আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। বাংলাদেশ :বঙ্গবন্ধু ও আজকের শীর্ষক শিরোনামে বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৫ আগস্টের ঘাতকদের অবস্থান ছিল ইতিহাসের বিরুদ্ধে কারণ বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই বঙ্গবন্ধু। ঘাতকরা ভাবেনি যে লোকান্তরিত মুজিব বাঙালির মানসপট থেকে অন্তর্হিত না হয়ে ক্রমশ সূর্যের মতো ভাস্বর হবেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের দ্বারা শ্মশান-বাংলায় রূপ নেয়া স্বদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার কঠিন ব্রত নিয়ে যৌবন থেকে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ যেন ১৯৭৫ সালের পর থেকে সামরিক শাসন ও রাজাকায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি বৈশিষ্ট্য অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাই এই সমাজ-রাষ্ট্রে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের মতো বর্বর মৌলবাদী শক্তির বিকাশ ঘটেছে। একক বক্তা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করায় প্রায় সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী অপশক্তিকে ছাড় দিয়ে চলেছে যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আসন্ন ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে আমাদের শপথ হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহিদুল ইসলাম, সংগীত পরিবেশন করেন ফারহানা শিরীন। এছাড়া অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রখ্যাত জাপানি চলচ্চিত্র পরিচালক নাগিসা ওসিমা নির্মিত ‘রহমান দি ফাদার অব বেঙ্গল’ শীর্ষক ২৮ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।