ঈদের ছুটি ও হরতাল শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। আবার নানা শঙ্কায় ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি যাননি, তাদের ঢাকা ছাড়তে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের টানা (তিনদিন) ছুটি থাকায় অনেকেরই নতুন করে এই বাড়ি ফেরা। আবার বাড়তি এ টানা ছুটির বিষয়টিকে মাথায় রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই ফিরে আসেননি এখনো।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সমানভাবে পাল্লা দিয়ে ঢাকামুখী ও ঢাকা ছাড়া মানুষের চাপ বেড়েছে। ঈদের আমেজ কেটে গেলেও যাত্রী হয়রানি, লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী ও অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ আগের মতোই। পাশাপাশি যাত্রী বেশে ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য তো রয়েছেই।
তবে অন্যান্য বেসরকারি পেশার মানুষের ফিরে আসার চিত্র বরাবরের মতোই। খারাপ আবহাওয়ায়ও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে আসছে লঞ্চগুলো। ঈদের দু’দিন আগ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও টাস্কফোর্স এসব বিষয়গুলো দেখভাল করলেও ঈদ পরবর্তী শিথিলতায় এখন আবার আগের চেহারায় ফিরেছে সদরঘাট।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিষয়ে বরিশাল থেকে আসা যাত্রী আবদুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ বছর লঞ্চে যাতায়াত করি। আগে লঞ্চে ওঠার সময় টিকিট দেয়া হতো। এতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হলেও ব্যবস্থা নিত কর্তৃপক্ষ। এখন নদীর মাঝখানে গিয়ে ভাড়া আদায় করা হয়। ভাড়া না দিলে নানা ভয় দেখানো হয়। অভিযোগ দিলেও কোনো লাভ হয় না।
বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা এম ভি মিতালী-২ থেকে চার-পাঁচজন যাত্রীর সর্বস্ব লুট হয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ঈদের আগে টাস্কফোর্স ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে তদারকি করলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখন আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ফিরছে মানুষ।
ভোলা থেকে ছেড়ে আসা এম ভি টিপু-৪ এর একজন যাত্রী বলেন, ঈদের দু’দিন আগে লঞ্চটি নামানো হয়েছে। নদীর মাঝখানে কয়েকবার এটি বন্ধ হয়েছে। শুনেছি এর ফিটনেস নেই। তারপরও নামানো হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী তোলার অভিযোগও করেন তিনি।
এ বিষয়ে এম ভি টিপু-৪-এর সুপারভাইজার আবদুল হক অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ভাড়ারও কম নেয়া হচ্ছে বলে দাবি তার। তবে ফিটনেস বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে বরিশালগামী সম্রাট-২-এর যাত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ২৫ রমজানে পরিবারের সবাইকে গ্রামে পাঠিয়েছি। হরতালের কারণে অফিস না করতে পারার শঙ্কায় বাড়ি যাইনি। অতিরিক্ত তিনদিন ছুটি পাওয়ায় এখন বাড়ি যাচ্ছি। ছেলেমেয়েদের স্কুল খুলবে। সবাইকে নিয়ে আসার জন্য যাচ্ছি।
লঞ্চের ফিটনেস ও অন্যান্য বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ পরিবহন পরিদর্শক এবিএস মাহমুদ বলেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকে রুট পারমিট ও ডিজি শিপিং থেকে ফিটনেস সনদ দেয়া হয়। এ ঘাটে ৩৯টি রুটের প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০টি লঞ্চের মধ্যে ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ নেই। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া এবং যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকামুখী যাত্রীর চেয়ে ঢাকা ছাড়া যাত্রী এখনো বেশি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, রাত সোয়া তিনটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট পর পর লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে। ১২টা থেকে বিকেলে সাড়ে পাঁচটা প্রর্যন্ত ১ ঘণ্টা পর পর ছাড়া হবে। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে সদরঘাট লঞ্চ মালিক সমিতি সভাপতি কে এম মাহমুদুর রহমান বলেন, এবার তো হরতালের কারণে লঞ্চ মালিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। যারা ঈদে যেতে পারেননি এখন তাদের চাপ বাড়ছে।
