গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে না নিতে আহবান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে ১৬ জন সিনেটর এবং ১৬ জন কংগ্রেসম্যান রয়েছেন। গত বুধবার তারা শেখ হাসিনার প্রতি এক খোলা চিঠিতে এ আহবান জানান। তারা বলেন, সরকারের কর্তৃত্ব বাড়ানো, একে ভেঙ্গে টুকরো করা, পর্ষদ থেকে নারী ঋণ গ্রহীতাদের বাদ দেয়াসহ গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একই আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরেকটি খোলা চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ৪০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কেনেডি সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, ভার্জিন গ্রুপের চেয়ারম্যান রিচার্ড ব্র্যানসন, নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হারলেম ব্র্যান্ডল্যান্ড, পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো টলেডো, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইটের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিরাও রয়েছেন। চিঠিতে কমিশনের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ চিঠির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়েরই গ্রামীণ ব্যাংকের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সাম্প্রতিক সুপারিশ তাদের অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে। এ ধরনের প্রস্তাব ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এর ফলে নারী ঋণগ্রহীতা ও শেয়ার হোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যারা ব্যাংকটিকে এমন সফল জায়গায় এনেছেন। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে হবে, যার মাধ্যমে গত তিন দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে প্রতিষ্ঠানটি মুক্ত রয়েছে। খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সিনেটর বারবারা বক্সার, মাইকেল বি এনজি, মার্ক আর ওয়ার্নার, টিম জনসন, কংগ্রেসম্যান কিথ এলিসন, জোসেফ ক্রাউলি, এরিক পলসেন, জিম ম্যাকডারমট প্রমুখ।
বাংলাদেশের বন্ধু পরিচয়ে ৪০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির খোলা চিঠিতে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশগুলো প্রত্যাখ্যানের সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। তাদের মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি ক্ষুণ্ন হবে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষমতা খর্ব না করার আহবান জানিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে এক সম্পাদকীয় প্রকাশের এক সপ্তাহ পর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ৭৩ বছর বয়সী ড. ইউনূস ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান। রাজনীতিতে আসার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানানোর পর থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বিরোধ বাড়তে থাকে।
