নরসিংদীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঈদে ব্যাপক শোডাউন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৪
ঈদের আগে পোস্টার-ব্যানারে আর ঈদের দিন সশরীরে এলাকায় এসে প্রচার প্রচারণা চালান নরসিংদীর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ কেউ নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা সরাসরি জানিয়েছেন। কেউ কেউ ভোটারদের কাছে গিয়ে শুধু দোয়া চেয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোটামুটি সব রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট গত নির্বাচনে পাঁচটি আসনেই বিজয়ী হয়। এর পর গত সাড়ে চার বছরে সংসদ সদস্য ও দলের সিনিয়র নেতাদের এলাকার দলীয় কর্মসূচিতে তেমন একটা দেখা যায়নি। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর নরসিংদী পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন দলীয় কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এ হত্যা মামলায় মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই-ভাগিনাসহ দলীয় ১২ নেতা-কর্মীকে আসামি করার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করে। নরসিংদীর এমপিদের মধ্যেও বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ ধারণ করে। ওই ঘটনার জের ধরে একপক্ষে অবস্থান নেন লোকমানের ছোটভাই নরসিংদী পৌরসভার বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল, নরসিংদী সদরের এমপি লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতীক, নরসিংদী-২ আসনের এমপি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ ও নরসিংদী-৩ আসনের এমপি জহিরুল হক ভুঁইয়া মোহন। অন্যপক্ষে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর পক্ষে অবস্থান নেন নরসিংদী-৪ আসনের এমপি এডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে জেলা বিএনপিও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে গ্রুপিং আর কোন্দল। তবে সমপ্রতি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ফের প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা নির্বাচনের পাশাপাশি মহাজোট সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির নিষ্ক্রিয় অবস্থাকে চিরন্তন মনে করে গত সাড়ে চার বছর এক প্রকার ঘুমিয়েই কাটিয়েছে। তবে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির পর নেতাকর্মীদের ঘুম ভেঙেছে। দীর্ঘদিন পর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও কর্মী সম্মেলন করতে গিয়ে কঠিন সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন এমপিরা। তারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আবারো দলকে জয়ী করার জন্য মাঠে কাজ করার আহবান জানান। পাঁচটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন: নরসিংদী-১ (নরসিংদী সদর): বর্তমান এমপি লে: কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতীক আবারো আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনের ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল মতিন ভুঁইয়া, সাবেক সচিব মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী ইঞ্জিনিয়ার, জি এম তাবেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, প্রয়াত এমপি সামসুদ্দিন আহমেদ এছাকের স্ত্রী লাকী আহমেদ, মেজবাহ উদ্দিন ভুঞা ইরান ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মিঞা মো. সেলিম। জাতীয় পার্টির (এ) সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মোস্তফা জামাল বেবী ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মেহের উদ্দিনও আগামী নির্বাচনে লড়বেন। নরসিংদী-২ (সদরের তিনটি ইউনিয়ন ও পলাশ উপজেলা):এই আসনের এমপি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ আগামী নির্বাচনে আবারো দাঁড়াবেন। এছাড়া নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো. নূরুল ইসলাম ও সাবেক বিচারপতি মনসুরুল হক চৌধুরীও আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন কেন্দ ীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এলদেম কবীর ও পলাশ থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল বাছেদ। জাপার প্রার্থীরা হলেন এডভোকেট রশীদুজ্জামান ও এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন। জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জায়দুল কবির ও ইসলামী আন্দোলনের ইঞ্জিনিয়ার মহসিন আহমেদ নির্বাচন করবেন বলে এলাকায় খবর শোনা যাচ্ছে। নরসিংদী-৩ (শিবপুর): এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি জহিরুল হক ভুঁইয়া মোহন। জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফটিক মাস্টার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মো. সানাউল্লাহ মিয়া, বিশিষ্ট শিল্পপতি মঞ্জুর এলাহী, বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব আব্দুল মান্নার ভুঁইয়ার ছেলে ভুঁইয়া নন্দিত নাহিয়ান সজল। এডভোকেট রেজাউল করিম বাসেত ও জাহাঙ্গীর পাঠান জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী। ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থী হারিছুল হক। নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব): এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি এডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। আওয়ামী লীগ থেকে আরো নির্বাচন করতে চান যুবলীগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক কাজী মাজাহারুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু, সাবেক এমপি ড. মু. শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা ডা.আব্দুর রউফ সরদার, কেন্দ্রীয় নেতা লে:কর্নেল (অব.) আব্দুর রউফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট এস এ হাদী, ড. রইছ উদ্দিন ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী খান রিপন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, লে. কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন, সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা সানাউল হক নিরু। জাকের পার্টির আয়েশ উদ্দিন, জাপার (এ) ব্রিগেডিয়ার (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান ও সিপিবির কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনও নির্বাচন করবেন বলে তাদের সমর্থকরা জানিয়েছেন। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা): এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান এমপি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজাল হোসাইন ও এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি আব্দুল আলী মৃধা, কাজী আশরাফুল আজীজ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলী রেজাউর রহমান রিপন, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ হোসেন ও এডভোকেট এ কে নেছার উদ্দিন। জাপার কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার এম এ সাত্তার ও ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম নির্বাচনে লড়বেন।