টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের কোন্দলের জের ধরে বিএনপি নেতা ও পৌর মেয়র সরকার শহিদ গ্রেফতার হয়েছেন। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে খাদ্যমন্ত্রীর গাড়ি অবরোধ হওয়াসহ বিএনপির বিক্ষুব্ধ কর্মীদের হামলায় মন্ত্রীর গাড়িবহরে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষই বাসস্ট্যান্ডে প্রতিপক্ষের দোকান ভাংচুর করে। বুধবার রাতে বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে।
মধুপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেনের ভাই সুইডেন প্রবাসী আব্দুল লতিফ সম্প্রতি দেশে ফিরে বিএনপির পক্ষে মধুপুর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রচারণা শুরু করেন। এই অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় পৌর মেয়র সরকার শহিদের লোকজন আমজাদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। আমজাদ হোসেন হামলার অভিযোগে রাতে সরকার শহিদকে প্রধান আসামি করে মধুপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতেই সরকার শহিদকে গ্রেফতার করে। পরে দুই গ্রুপ থানায় বসে আপস করায় সকালে সরকার শহিদকে ছেড়ে দেয়া হয়।
কিন্তু সকাল সাড়ে আটটার দিকে মুচলেকায় স্বাক্ষর দেয়ার কথা বলে সরকার শহিদকে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়। এতে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মধুপুর থানায় জড়ো হয় এবং সরকার শহিদের মুক্তি দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাসস্ট্যান্ডে হামলা চালায়। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের গাড়ি বহর সেখান দিয়ে যাওয়া পথে হামলাকারীদের অবরোধের মুখে পড়ে এবং তারা পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। নেতা-কর্মীরা কয়েকটি দোকান ভংচুর করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আক্রমণ করে তিনটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে এবং উপজেলা বিএনপি অফিসে হামলা চালায়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ভিতরের কোন্দলকে কেন্দ্র করে তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছে। মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি বলেন, বিএনপির দুই পক্ষে মারামারি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে সহায়তার জন্য বের হয়েছিল। কিন্তু তারা কোন ভাংচুর করেনি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফা বলেন, সরকার শহিদকে গ্রেফতার করিয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে । আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।
মধুপুর থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, মামলার ভিত্তিতে সরকার শহিদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে কোর্টে নেয়ার পথে বিএনপির লোকজন আক্রমণ করে পুলিশের একটি পিকআপ ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সরকার শহিদকে গতকালই কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
