জার্মানিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বোধ করে অভিবাসীর সন্তানেরা। একটি নতুন জরিপ থেকে সেই তথ্যই জানা গেছে। অভিবাসী শিশু-কিশোরদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বোধ করে। সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যবহারেও নাকি তা প্রকাশ পায়। -খবর ডয়চে ভেলের।
তুর্কি অভিবাসীদের সন্তান আনিয়া কোলোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন, পরে মিডিয়া কালচার নিয়ে ডক্টরেট করেছেন। জাতিতে তুর্কি হওয়ার দরুন যে তার প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে, এ অনুভূতি তার স্কুলজীবন থেকেই আছে। ‘‘খুবই কষ্ট পেয়েছি,” আজও মনে পড়ে বলেন আনিয়া। বিশেষ করে একটি ধারণা তিনি বরদাস্ত করতে পারতেন না। সেটি হল: অভিবাসীরা নাকি ভালো জার্মান বলতে-লিখতে পারে না।
জার্মানদের সম্বন্ধে কিন্তু এ ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করা হয় না। কারো জার্মান ভাষাজ্ঞান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করার জন্য তার বিদেশি নাম, কিংবা উচ্চারণে সামান্যতম টানই যথেষ্ট। যে জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে, সেটি প্রকাশ করেছে জার্মান ফেডারেল সরকারের বৈষম্য প্রতিরোধ কার্যালয় (এডিএস)। শুধু অভিবাসীদের সন্তানরাই নয়, প্রতিবন্ধী ও সমকামীরাও বৈষম্য এবং অপমানজনক কথাবার্তার কথা বলেছে। এসবই রয়েছে জার্মান সংসদের কাছে পেশ করা এডিএস-র রিপোর্টে। শিক্ষা অথবা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য সম্পর্কে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ইতিপূর্বে জার্মানিতে প্রকাশিত হয়নি, বলছে এডিএস স্বয়ং। এডিএস-এর অধ্যক্ষা ক্রিস্টিনে ল্যুডার্স বলেছেন: ‘‘বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য আছে। সূক্ষ্ম ধরনের বৈষম্য হলো, যখন একজনকে নানাভাবে বারংবার অপমান করা হয়।”
শারণ্য বার্লিনের একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী, তার বাবা-মা এসেছেন শ্রীলঙ্কা থেকে। রাস্তায় বেরুলে শুধু তার গায়ের রঙের জন্য তাকে ‘হ্যালো, চকোলেট!’ বলে অভিবাদন জানানো হয়। জার্মানির শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাইমারি স্কুল থেকে ‘গিমনাজিয়ুম’ বা হাইস্কুলে যাবার যোগ্যতা কোনো ছাত্রছাত্রীর আছে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেন ক্লাস টিচার। সে ক্ষেত্রেও দেখা যায়, দু’জন ছাত্রছাত্রীর মার্কস এক হলেও, অভিবাসী ছেলে কিংবা মেয়েটির পরিবর্তে ‘খাঁটি’ জার্মান ছেলে কিংবা মেয়েটিকেই গিমনাজিয়ুমে পাঠানো হয়।
মুশকিল এই যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের, অর্থাত্ উচ্চশিক্ষার পথ ঐ গিমনাজিয়ুমের মাধ্যমেই। কাজেই এক হিসেবে প্রাইমারি স্কুলের শেষেই অভিবাসী শিশুটির ভবিষ্যত্ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে যাচ্ছে।
