কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার আলোচনা সভা

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রত্যয়

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:২২
বঙ্গবন্ধু শুধু আমাদের জাতির জনকই নন, তিনি একজন আদর্শ নেতা, একজন দেশপ্রেমিক মহামানব। এমন মহামানবের জীবনাদর্শ আমাদের নতুন প্রজন্মের পাথেয় হলে দেশ এগিয়ে যাবে, দেশ সমৃদ্ধ হবে। তাই ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হূদয়ে ধারণ করে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রবীণরা। নতুন প্রজন্মও সেই প্রত্যয় ব্যক্ত করে। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা আয়োজিত আলোচনাসভায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ করেন সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য কবি রুবি রহমান, সহ-সভাপতি স্থপতি কবি রবিউল হোসাইন, ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডি ডি ঘোষাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে মেলার বন্ধু সামিউল ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ উপস্থাপন করে। সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কচি-কাঁচার বন্ধুদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবনের কিছু স্মৃতি তুলে ধরে তার মহানুভবতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, ছেলেবেলা থেকেই তাকে জানার সুয়োগ হয়েছিল তার। বঙ্গবন্ধু জন্মগতভাবে একজন জাত নেতা ছিলেন। কোন স্কুল কিংবা পাড়া-মহল্লায় অনুষ্ঠান, দুর্ঘটনা কিংবা দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তিনি নিজ থেকেই সেখানে উপস্থিত হতেন। সকলকে সবরকমের সহযোগিতা করতেন। অন্যকে কমান্ড করার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তার। আবার একই সাথে তিনি বড়দের শ্রদ্ধা করতেন অবনত মস্তকে। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় গোপালগঞ্জের অসুস্থ সাবেক এমএলএকে নিজে খোঁজ নিয়ে দেখতে যান এবং তার জন্য যা প্রয়োজন তা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু এই ঘটনা যাতে খবর না হয় সে বিষয়ে সর্তক করে দিয়ে সবাইকে বলেন, ‘আজ সামসুদ্দিন চাচাকে প্রধানমন্ত্রী নয়, ব্যক্তি মুজিবুর দেখতে এসেছে।’ এমন মানুষের জীবনী ছোটদের পাঠ করতে নির্দেশ দেন সভাপতি। তিনি বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড যেদিন ঘটে সেদিনকে অন্যরা জন্মদিন পালন করে, যা সত্যি নয়। যারা এমন নোংরা বিদ্বেষ পোষণ করে তাদের কাছ থেকে দেশের মানুষকে সর্তক থাকতে পরামর্শ দেন ইব্রাহিম খালেদ। কবি রুবি রহমান ইতিহাস বিকৃত হওয়ার বিষয়ে নতুনদের সর্তক করে দিয়ে বলেন, তোমরা স্কুল, খেলার মাঠে যখন এমন কোন বন্ধু পাবে যারা স্বাধীনতা কিংবা বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে কথা বলে তখন তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকবে। তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নিজের লেখা কবিতা বাংলার প্রমিথিউস আবৃত্তি করেন। কবি রবিউল হোসাইন বলেন, পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেন, তাদের অবদান কখনও সম্পূর্ণ হয় না। বঙ্গবন্ধু তেমনই একজন মানুষ। তার ব্যক্তিজীবনের অনেক কিছু আছে, যা আজও আমাদের জানা হয়নি। জানলে আমরাই উপকৃত হবো। ডিডি ঘোষাল বলেন, বঙ্গবন্ধু কোন দল, রাজনৈতিক সম্পদ নন, তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। তাকে নিয়ে রাজনৈতিক ভাগাভাগি সমীচীন নয়। তিনি নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার আদর্শ বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়পর্বে কচি-কাঁচার মেলার বন্ধুরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা ও গান পরিবেশন করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।