কোন্দলের ঘুরপাকে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:১৮
হতাশার ধূম্রজালে আটকে আছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে পরাজয়কে কেন্দ করে স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্বে সৃষ্ট মতানৈক্যের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে। ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত্ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে মহানগর আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের কম উপস্থিতি তারই প্রমাণ। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, হতাশায় রয়েছেন এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীও। দলের মাঠ পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে দলের কতিপয় শীর্ষ নেতার অসহযোগিতা, অপপ্রচার, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরা হয়। নির্বাচন পরবর্তী দলের কর্মী ও বর্ধিত সভায় মেয়র প্রার্থী এসব অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্তরাও পাল্টা অভিযোগ ছুঁড়ে দেন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও মতানৈক্য প্রকাশ্যে চলে আসে। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দলের সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর। এছাড়া দীর্ঘদিন মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন না হওয়া, ক্ষমতার সুযোগ-সুবিধা কতিপয় নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় পূর্ব থেকেই এক ধরনের হতাশা ভর করে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এই হতাশা কাটিয়ে উঠতে দলের নীতি নির্ধারণী মহল থেকে ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে নির্দেশ দেয় স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে। নির্বাচন পরবর্তী সময় রমজান মাসে ইফতার মাহফিল, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দণ্ডাদেশ এবং জাতীয় শোক দিবসে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থাকার জন্য কেন্দ ীয় নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ হতাশার বেড়াজাল থেকে বের করে আনতে পারেনি নেতা-কর্মীদের। জাতীয় শোক দিবসে দায়সারা কর্মসূচি পালন এবং দুর্বল উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের ক্ষুব্ধ করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় আওয়ামী লীগ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকে আলাদা কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের কর্মসূচিতে ব্যাপকতা ছিল না। ২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট শাহ আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয় নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। এ বছর ওয়ার্ডে ঘোষিত কর্মসূচিতে ব্যাপকতা না থাকা এরই একটি কারণ। আগেভাগে প্রস্তুতি থাকলে কর্মসূচি আরো ভাল হতো বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, এরপরও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি মসজিদে দোয়া ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হোসেন রুমি জানান, ছাত্রলীগ পৃথকভাবে কোন কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সাথে যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান দলীয় কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি কম এবং হতাশার কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যাপক উন্নয়ন করেও নির্বাচনে পরাজয় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছে ঠিকই। তবে হতাশা কাটিয়ে উঠে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। কর্মসূচিতে উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বছর প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোন দূরত্ব বা মতানৈক্য নেই বলে তিনি দাবি করেন।