গোদাগাড়ীতে শিম ও টমেটোর ভাল দাম পেয়ে কৃষক খুশি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:২১
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে শিম ও টমেটো উঠতে শুরু করেছে। আশা অনুযায়ী শিম ও টমেটোর দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি। গোদাগাড়ী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরসূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে শিম ও ২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। গত জুন মাসের শেষের দিকে জমিতে শিম ও টমেটো চারা রোপণ করা হয়। ১ সপ্তাহ ধরে শিম ও টমেটো উঠতে শুরু করেছে। কৃষকরা জানান, প্রতি কেজি শিম ও টমেটো ১শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী সরাসরি জমিতে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে শিম ও টমেটো ক্রয় করছেন। এতে পরিবহন খরচ বেঁচে যাওয়ায় কৃষকদের বেশি লাভ হচ্ছে। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর গ্রামের কৃষক রাকিবুল ইসলাম ২০১১ সালে ৫ কাঠা জমিতে প্রথম টমেটো চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় ২০১৩ সালে ১ বিঘা জমিতে ঐ টমেটো চাষ করেন। তবে বৈরী আবহাওয়ায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে এবার ১০ কাঠা জমিতে ঐ টমেটো চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। গত সোমবার জমি থেকে ১০ কেজি টমেটো উত্তোলন করে প্রতি কেজি ১শ টাকা দরে তিনি বিক্রি করেছেন। গাছে ব্যাপক হারে ফল ও ফুল দেখা দেয়ায় ভাল ফলনের আশা করছেন তিনি। এবার দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে রাকিবুল ইসলাম জানান। ঈশ্বরীপুর গ্রামেরই রোজিনা মুর্মু অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলেন। গত বছর শিমের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তার আগ্রহ হয় শিম চাষের। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে তিনি শিম চাষ করেন। তিনি ও তার স্বামী জমিতে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করায় খরচ কম হয়েছে। শিম চাষে তার খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার টাকার শিম বিক্রি হয়েছে। উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামের মানিক টুডু ১০ কাঠা জমিতে শিম চাষ করে ফুল ও ফল ব্যাপকভাবে দেখা দেয়ায় শিম বিক্রি করে বেশ লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। চাষকৃত জমিটি নিচু হওয়ায় মাদা তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি ৩ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন।