মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম ক্রমেই কমছে। গতকাল শুক্রবার প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬২ দশমিক শূন্য তিন রুপি। এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রতি ডলারে পাওয়া যেত ৬১ দশমিক ৮০ রুপি।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে তাদের বিনিয়োগ ক্রমাগত প্রত্যাহার করতে থাকায় রুপির এ পতনের কারণ। শিল্প-কারখানা ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার থেকে অর্থ প্রত্যাহার করায় রুপির দাম পড়ে যাচ্ছে। মূলত ভারতের অর্থনীতি সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে এমন আশংকা থেকে বিনিয়োগকারীরা অর্থ সরিয়ে ফেলছেন। গত জুন মাস থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে ১১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তুলে নিয়ে গেছেন।
রুপির পতন ঠেকাতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা ব্যবস্থা নিলেও এর ফল কম। কর্তৃপক্ষ আশংকা করছে, রুপি দুর্বল হলে তার প্রভাব পড়বে খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উপর। ইতিমধ্যে ব্যক্তি এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে ভারতের বাইরে অর্থ সরিয়ে নেয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আশা করা হচ্ছে, গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ১৫ শতাংশ পড়ে গেলেও এবার তা চাংগা হবে। এর আগে একটি ভারতীয় কোম্পানি তার মূল সম্পদের চারশ শতাংশ বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারলেও এবার তা কমিয়ে একশ ভাগে আনা হয়েছে। এর আগে একজন ব্যক্তি বছরে দুই লাখ ডলার বিদেশে পাঠাতে পারলেও এবার তা ৭৫ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ডলারের মজুদ বাড়াতে সোনার কয়েন এবং বার আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
শংকা মুদ্রাস্ফীতির :ডলারের বিপরীতে রুপির দাম পড়ে যাবার কারণে আশংকা করা হচ্ছে, ভারতে আমদানি ব্যয় অনেক বাড়বে। ভোক্তাদেরকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের অর্থনীতিতে ৯ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হলেও এবার তা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্পাদন এবং সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হবার কারণে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে তার প্রভাব পড়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির অবস্থান দুর্বল হবার কারণে ভারত রফতানিতে কিছুটা সুবিধা পেলেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ছে বেশ। এতে করে বিশ্লেষকরা আগামী কয়েক মাসে তীব্র মূদ্রাস্ফীতির আশংকা করছেন। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, কেমিক্যাল এবং কয়েক প্রকার খাদ্যদ্রব্যের জন্য ভারতকে আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়।
