আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জঙ্গিরা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০১
নামে বেনামে জঙ্গি সংগঠনগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জেএমবি, জেএমজেবি, হুজি, শাহাদত-ই-আল হিকমা ও হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণা হলেও নতুন নামে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে। আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্স (এআরসিএফ), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিযবুত তাওহীদ, তামীরউদ্দীন, লস্কর-ই-তৈয়বা, জয়স-ই-মোহাম্মদসহ অন্তত ২০টি জঙ্গি সংগঠন এখন সক্রিয়। আট বছর আগের এই দিনে সারাদেশের ৬৩টি জেলায় পাঁচশর বেশি স্থানে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছিল। এ ব্যাপারে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘জঙ্গি কার্যক্রম এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন নামে-বেনামে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। গ্রেফতারের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে অথবা জেল থেকে সাজা খেটে মুক্ত হয়ে আবারও জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে এরা।’ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) দেশের ৬৩ জেলার (মুন্সীগঞ্জ বাদে) গুরুত্বপূর্ণ সাড়ে ৪শ’ স্থানে প্রায় সাড়ে ৫শ’ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গি হামলার প্রকাশ্যে প্রচার চালায়। হামলায় দুইজন নিহতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে জঙ্গি কার্যক্রম। দেশ জুড়ে শুরু হয় একের পর এক আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা। বোমা হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। বাংলাদেশ জঙ্গি কবলিত হয়ে পড়ায় সেই ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত হয়। জঙ্গি গ্রেফতারে তত্পর হয়ে ওঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঐ সময় গ্রেফতার হয় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহ, আব্দুল আউয়াল, হাফেজ মাহমুদসহ ৭৪৭ জন আসামি। ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা ১৬১টি মামলার মধ্যে ৫৯টি মামলা বিচারাধীন। ১০২টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১৮ জনের যাবজ্জীবন, ৯৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। ৩৫ জন জামিন ও ৫৭ জন পলাতক রয়েছেন। র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, ২০০০ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে বোমা হামলার মধ্যদিয়ে জেএমবি’র যে কার্যক্রম শুরু করে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও মাঝে-মধ্যে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জেএমবি’র কার্যক্রম যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। জেএমবি’র অনেক সদস্য এখনও আত্মগোপনে আছে। অনেক সদস্য জামিনে ছাড়া পেয়ে তারা আবারও তাদের জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। র্যাবসূত্রে জানা যায়, জেএমবির সিরিজ বোমা হামলাসহ অন্যান্য বোমা হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত আদালত ৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। বাকি ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি এখনো। তারা দণ্ড থেকে বাঁচতে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আপিল করা ৩৯ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের মেলান্দহ থানার ফুলছেন্না গ্রামের হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসান ওরফে হায়দার, নারায়ণগঞ্জের সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন ওরফে সজিব, নওগাঁর নিয়ামতপুরের আবদুল কাইউম, বগুড়ার শেরপুর থানার খামারকান্দি গ্রামের হাফেজ মো. মিনহাজুর ইসলাম ওরফে সোহেল রানা ওরফে সানোয়ার হোসেন, জামালপুরের সরিষাবাড়ির সাতপোয়া গ্রামের আক্তারুজ্জামান, খুলনার রূপসার রামনগর থানার তরিকুল ইসলাম ওরফে রিংকু, ঝিনাইদহের শিকারপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মোখলেছুর, একই গ্রামের নাসরুল্লাহ ওরফে শান্ত, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের দেবরাজপুর গ্রামের রোকনুজ্জামান ওরফে সিবুন, গাইবান্ধার ব্রীজ রোডের জাতীয় সংসদ ভবনের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবু তালেব আনছারী ওরফে বাবুল আনছারী, ঝিনাইদহের মোহন, মামুনুর রশিদ, মুহিত, মোজাম্মেল হক ওরফে মোজাম, তুহিন রেজা, সবুজ আলী ও ফারুক হুসাইন, গাইবান্ধার ব্রীজ রোডের মতিন মেহেদী ওরফে মতিনুর ইসলাম, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের আড়পাড়ার মহিরুল আল মামুন ওরফে চাঁদ, ঝিনাইদহ সদরের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন, মোল্লাকোপ গ্রামের সাহাব উদ্দিন, শৈলকুপার দেবীনগর গ্রামের রবজেল হোসেন ওরফে রবজেল ও আজিজুর রহমান। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী শ্রীকোল গ্রামের শহীদুল্লাহ শেখের ছেলে আবু সাইদ শেখ, ঝিনাইদহের ইউনুস ও শৈলকুপার দেবী নগর গ্রামের তেভারত আলীর ছেলে আজিম উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরগুনা থেকে গ্রেফতার হওয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দীন রাহমানী ও ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার হওয়া তামীরউদ্দীনের ৯ সদস্য গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় র্যাবকে ভাবিয়ে তুলেছে। এর আগে র্যাব ২০০৪ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৮৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের কাছ থেকে ৭৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩ হাজার রাউন্ড গুলি, ৬২৪টি গ্রেনেড, ১৮শ ১১ কেজি বিস্ফোরক ও বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, নতুন নামে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে র্যাবের অভিযান চলছে।