আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, সকল আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার কাজ পরিচালনার পরও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে তা ভিত্তিহীন ও অসত্য। এ ধরনের বক্তব্য একটি স্বাধীন দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ শামিল। তিনি বলেন, আমি মনে করি সংস্থাটি জামায়াতের লবিষ্ট হিসেবে কাজ করছে। তাদের এই বিবৃতি এখতিয়ারবহির্ভূত।
গতকাল শুক্রবার জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) যে বিবৃতি দিয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেদের আইনে এই অপরাধের বিচার করছি। এই বিচারের একটা পর্যায় শেষ হয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গোলাম আযমের আপিল বিচারাধীন। সেখানে ট্রাইব্যুনালের রায় পর্যালোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বিচারাধীন বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই বিচার সকল আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেই হচ্ছে। এখানে স্বচ্ছতার কোনো অভাব ছিল না। ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের যে অভিযোগ এইচআরডব্লিউ এনেছে তা ‘মারাত্মক আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, আসামিরা কোনো কোনো অপরাধে খালাস পাচ্ছে। আবার তাদের বিরুদ্ধে কোনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিতও হচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে, আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং দলিলের ভিত্তিতে অভিযোগ রাখছে বা খারিজ করে দিচ্ছে। তাই বিচার নিয়ে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আমি বিস্মিতঃ ড. তুরিন
এদিকে একই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। বার্তা সংস্থা বিডিনিউজকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, গোলাম আযমের মামলা নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্যে আমি স্তম্ভিত।
প্রথমত, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কে? এটিও কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়? আন্তর্জাতিক আইনের সব ধারা লঙ্ঘন করে যখন আইখম্যান বা সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়েছিল, তখন এই সংস্থাটি কি করেছে? তখন কি তারা তাদের কথিত আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষায় কোনো কথা বলেছে?
দ্বিতীয়ত, নিজেদের মানবাধিকার সংগঠন বলে দাবি করলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কি কখনো একাত্তরের বর্বরতার শিকার মানুষের অধিকার রক্ষায় দাঁড়িয়েছে? কেন দাঁড়ায়নি?
তৃতীয়ত, যেটা আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গোলাম আযমের মামলাটি যখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন, তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কেন, কেউ কি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার অধিকার রাখে? আমি আশা করব, এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় আরো বেশি সচেষ্ট হবে এবং মানের বিষয়ে আরো বেশি শ্রদ্ধা দেখাবে।
