প্রশাসনে ‘গণপদোন্নতি’ নিয়ে সচিবালয়ে আলোচনার ঝড়

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫২
প্রশাসনে ‘গণপদোন্নতি’ নিয়ে এখন আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম সচিবালয়। টেবিলে-টেবিলে শুধু একই আলাপ। যত ক্ষোভ সব সরকারের বিরুদ্ধেই। কেন পদোন্নতি দেয়া হয়নি-তার কৈফিয়ত্ নেয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। অনেকে আবার ‘প্রতিশোধ নেয়া’র সুরে কথা বলছেন। যদিও এবারের পদোন্নতিকে অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক পরিচ্ছন্ন বলে অভিহিত করা হচ্ছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে চতুর্থ দফায় গত মাসে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে প্রশাসনের ৩৪৫ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তবে যুগ্ম সচিবের একটি পদও যেখানে শূন্য নেই সেখানে এত বেশি পদোন্নতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই এটাকে অনেকেই ব্যাঙ্গাত্বক অর্থে ‘গণপদোন্নতি’ বলে অভিহিত করছেন। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের চলতি মেয়াদের বিদায় বেলায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ প্রশমনে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় এবার লক্ষণীয় পরিবর্তন আনা হল। ইতিপূর্বে তিন দফায় যেসব কর্মকর্তাকে বিরোধী শিবিরের বা বিএনপি-জামায়াতপন্থি কিংবা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী হিসাবে চিহ্নিত করে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছিল, তাদের অন্তত ৬৫ জনকে এবার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তবে এরকম অন্তত আরো ১৩০ জন রয়ে গেছেন যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়নি। একইসঙ্গে এই সরকারের রাজনৈতিক ধারায় সম্পৃক্ত বলে পরিচিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি। অনেক কর্মকর্তাই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি আগের বঞ্চিতদের পদোন্নতি দেয়াই হল তাহলে সবাইকে দেয়া হল না কেন ? আবার কি যুক্তিতে আওয়ামীপন্থিরা বাদ পড়লেন ? যদিও গেল মাসে দেয়া এই পদোন্নতির পরপরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন যে দক্ষ, যোগ্য এবং সত্ সকল কর্মকর্তারই পদোন্নতির চেষ্টা করা হয়েছে। এই বক্তব্য নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকে। এদের বক্তব্য, তবে কী যারা পদোন্নতি পাননি তাদের সবাই যোগ্য, দক্ষ এবং সত্ নন। সব মিলিয়ে এখন সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে আলোচনা চলছে প্রতিদিনই। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে আছেন আগে বঞ্চিত কিন্তু এবার পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কীভাবে এবার তারা পদোন্নতি তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তা জানার চেষ্টা চলছে নানা প্রক্রিয়ায়। আগে বিএনপি-জামায়াতপন্থি চিহ্নিত করে বঞ্চিত রাখা কর্মকর্তাদের এবার পদোন্নতি দেয়ার কৌশলগত কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, প্রশাসনে ক্ষুব্ধদের সংখ্যা কমিয়ে আনা আর সরকার বিরোধীদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি করা। কিন্তু এ পদক্ষেপ কিছুদিনের জন্য সফল হলেও এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ভিন্নমতাবলম্বী পদোন্নতি প্রাপ্তদের সঙ্গে বঞ্চিত আওয়ামী ও বিএনপিপন্থি বলে পরিচিত সকলেই একতাবদ্ধ হচ্ছেন। কৌশলগত এই সম্পর্ক হয়তো বেশিদিন টিকবে না-কিন্তু অনেকের আশংকা এটি সচিবালয়ে কিছু সময়ের জন্য হলেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। সচিবালয়ের ওপর যাদের তীক্ষ নজর আছে তাদের অনেকেই বলছেন, সাম্প্রতিক পদোন্নতি সচিবালয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রশমন নয় বরং আগের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের বাইরের অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের মাঝেও বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করেছে। সংখ্যানুপাতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা বেশি সংখ্যায় পদোন্নতি নিয়েছেন-এই অভিযোগ সর্বত্রই। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য ক্যাডার থেকে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করার উপযুক্ত কর্মকর্তা পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি ইকনমিক, তথ্যসহ অন্তত ২৭টি ক্যাডার কর্মকর্তাদের।