খন্দকার আতাউর রহমান
ডাকনাম :ব্যাটন
জন্মতারিখ ও স্থান :৫ই মার্চ, নারায়ণগঞ্জ
মায়ের নাম :বেদানা আহমেদ
বাবার নাম :আনসার উদ্দিন আহমেদ
প্রিয় পোশাক :শার্ট, প্যান্ট
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :সদা সত্য কথা বলবে
অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম আর বুদ্ধির সমন্বয়।
ছবি দীপঙ্কর দীপু
খন্দকার আতাউর রহমান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লা ফর্কেটা
বেশ কয়েক বছর ইটালিতে কাটে আতাউর রহমানের। সেখানে রেস্টুুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। নিজেও রান্নায় পটু ছিলেন বেশ। আর তিনি দেশে ফিরে কিছু একটা করতে চাইলেন। প্রথম পছন্দই ছিল ভালো কোনো খাবারের আয়োজন করবেন। এই ভাবনায় শুরু করলেন লা ফর্কেটা। বর্তমানে গুলশানের খাবারের জনপ্রিয় আউটলেটে পরিণত হয়েছে এটি। আর এ যাত্রায় আতাউর রহমানকে অভিবাদন দেওয়াই লাগে কারণ তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগকে সাফল্যের মুখ দেখিয়েছেন। তার বড়ভাই আরেক সফল ব্যবসায়ী বেলা ইটালিয়ার উদ্যোক্তা বজলুর রহমানের সহায়তাও এই যাত্রায় তার বড় পাথেয় ছিল। আতাউর রহমান মনে করেন ঘরের বাইরে থাকলে, ভ্রমণকালে, অফিস থেকে বাসা দূরে হলে এবং সময় বাঁচাতে হলে অল্প খরচে পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিকর খাবার নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত হাতের কাছে পাওয়াটা কঠিন ব্যাপার। রেস্টুরেন্ট বা খাবারের দোকান এই সমস্যার সমাধান করে দেয়। অনেকে আবার স্বাদ পরিবর্তনের জন্যও খাবারের দোকানে খেতে যায়। সময়োপযোগী এসব ব্যবসা করে ক্যারিয়ারকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের জীবনযাপন অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে। কাজেই সব মিলিয়েই বাইরের খাবারের দোকানে ভালো করার অনেক সুযোগ রয়েছে। রেস্টুরেন্টের পরিবেশ থেকে শুরু করে সবকিছুর উপর জোর দেন আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘রেস্টুরেন্টের ভেতরের পরিবেশ খোলামেলা ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হওয়া উচিত। বিভিন্ন ধরনের হালকা আলো দিয়ে রেস্টুরেন্টকে আকর্ষণীয় করতে হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাচ্চাদের খেলার জন্য আলাদা কর্নার রাখতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক সম্পন্ন হলে দক্ষ প্রশিক্ষিত শেফ ও ওয়েটার নিয়োগ দিতে হবে। সাথে বিভিন্ন রুচিশীল ও সুস্বাদু খাবারের তালিকা রাখতে হবে। আর সবশেষে খাবারের স্বাদটাই কিন্তু আসল, সেটা ভুললে চলবে না।’ আতাউর রহমানের ছেলেবেলা কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। পুলিশ বাবার পরিবারে আদর-শাসনেই কেটেছে তার সেই দিনগুলো। এরপর তারা চলে আসেন ঢাকায়। ইটালিতে কেটেছে যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকটা সময়। সেই সময় ভালো কাটলেও দেশকে মিস করতেন খুব, এ কারণেই দেশে ফিরে আসা। তার স্ত্রী খন্দকার শিরীন সুলতানা শিল্পী গৃহিণী আর একমাত্র সন্তান খন্দকার রুদ্র রহমানকে নিয়েই কেটে যায় অবসর সময়। তিনি জানান, এ দেশের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সেগুলো কাজে লাগাতে চান।
০০০০
ফিওনা সালাহউদ্দন
ডাকনাম :ফিওনা
জন্মতারিখ ও স্থান :৩ এপ্রিল, যুক্তরাজ্য
মায়ের নাম :সিমলা সালাহউদ্দিন
বাবার নাম :এ এন এম সালাহউদ্দিন
প্রথম স্কুল :জেদ্দা প্রিপারেটরি অ্যান্ড গ্রামার স্কুল
প্রিয় মানুষ :রুবাইয়াত জামিল
(স্বামী)
প্রিয় পোশাক :শাড়ি
অবসর কাটে যেভাবে :সন্তানদের সাথে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পারিবারিক আর কাজের জায়গাটাকে সমানভাবে সমন্বয় করা, দুদিকেই যেন সফল হওয়া যায়।
ফিওনা সালাহউদ্দিন
উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ক্রিম অ্যান্ড ফাজ
খুব আইসক্রিম পাগল দু’জন। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রী দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। আর পথে আইসক্রিম পার্লারের দেখা পেলে তো কথাই নেই, দুজনেই জমে যান! একবার ফিওনা আর আদিত্য গেছেন থাইল্যান্ডে। শপিংয়ের ফাঁকেই তাদের চোখে পড়ে ক্রিম অ্যান্ড ফাজের একটা আউটলেট। আর সেখানে যেতেই তারা যেন স্বর্গ হাতে পেলেন। সত্যিকার অর্থেই এই আইসক্রিম ভক্তদের জন্য অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হলো। কে জানে হয়তো সেই টানেই ক’মাস বাদে আবার থাইল্যান্ডে গেলেন ফিওনা। এবার লক্ষ্য এই ব্র্যান্ডটা আমাদের দেশে আনা চাই, শুধু বিদেশ বিভুঁইয়ে কেন? আর তার দৃঢ় ইচ্ছাতেই কয়েক ধাপ পার করে অল্প সময়েই বাংলাদেশে আসে বিশ্বের জনপ্রিয় এই ফ্রাঞ্চাইজ। আর সেটা যেনতেনভাবে নয়, বনানীতে তারা উদ্বোধন করেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আউটলেট, এত ভোক্তাকে একসাথে সেবা দেওয়ার এমন সুযোগ এখনও কোথাও হয়নি। এরপর ধানমন্ডিতে তাদের আরও একটি শাখা খোলা হয়। এখন যমুনা ফিউচার পার্কে করা হচ্ছে আরও একটি। দেশীয়ভাবে তারা এটি পরিচালনা করছেন আইস রিটেইল ইনিশিয়েটিভ লিমিটেডের মাধ্যমে। তারা ইতোমধ্যেই ঢাকা রোল নামে একটা নতুন ব্র্যান্ড চালু করেছেন, এর আওতায় কিছু দেশীয় খাবারও জনপ্রিয় করেছেন । ফিওনা সালাহউদ্দিন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়। নিজের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ এখানে যেমন রয়েছে, রয়েছে ব্যবসা পরিচালনায় নানা খুঁটিনাটি শেখার সুযোগ। আর আমাদের দেশেই এখন কিন্তু এ রককম ভালো মানের আউটলেট গড়ে উঠছে। সেই জন্যই দিনকে দিন চ্যালেঞ্জিং হয়েও উঠছে এই বিষয়টি। এখানে ভোক্তাদের পছন্দের অপছন্দের বিষয়টাও চলে আসছে, সেরাটা নিয়েই এই ধরনের আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকতে চান তিনি সবসময়। ফিওনা বলেছেন পারিবারিক আর কাজের জীবনটাকে সমন্বয় করতে পারলেই সফলতা। আর যে যাত্রায় তিনিও বেশ সফল। এতটা কাজের চাপেও পরিবারকে কিছুটা সময় দেওয়া চাই। স্বামী রুবাইয়াত জামিল তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, সেই সাথে কাজেরও সঙ্গী। দুজনে মিলেই তারা এগিয়ে নিয়ে চলেছেন এই প্রতিষ্ঠানকে। আর তাদের ভালোবাসার একমাত্র কন্যা আনজারা জামিল। কেবল দুই পেরিয়ে তিনের পথে হাঁটিহাঁটি পা করে এগোচ্ছে। বাবা-মায়ের আইস্ক্রিম আউটলেটের সবচেয়ে বড় সমালোচক বুঝি সেই। চিকিত্সক বাবা আর গৃহিণী মায়ের পরিবারে ফিওনার বেড়ে ওঠা দেশ-বিদেশ মিলিয়েই। বিবিএ শেষ করে এখন এমবিএটাও করছেন তিনি এখন। প্রজন্মের মেধাবী এই উদ্যোক্তা মনে করেন, নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার শুরুতে অনেক বাধা-বিপত্তি আসতেই পারে। সেগুলোতে হার মানলে চলবে না। ফিওনার অনেক স্বপ্ন তার কোম্পানিকে নিয়ে। তার স্থানীয় ব্র্যান্ডটাকেও তিনি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চান। নতুন নতুন বেশকিছু আইডিয়াও রয়েছে তার। আরও কিছু নমুনা অচিরেই হয়তো দেখতে পাব আমরা। আইস রিটেইলের যাত্রা অবারিত হোক, দুর্দান্ত কিছু ব্র্যান্ডকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাক তারা।
0000
মো. সরোয়ার হোসেন
ডাকনাম :সরোয়ার
জন্মতারিখ ও স্থান :১২ অক্টোবর, ঝালকাঠি
মায়ের নাম :মরহুমা আখতারুন্নেসা
বাবার নাম :মরহুম আফসার উদ্দিন
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :আমানতের খেয়ানত করো না।
অবসর কাটে যেভাবে :খেলা দেখে, গান শুনে
সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা আর পরিশ্রম।
মো. সরোয়ার হোসেন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বে-লিফ
দশ নম্বর গোলচক্কর থেকে ইনডোর স্টেডিয়ামের দিকে একটু সামনে এগিয়ে যেতেই হাতের বাম পাশে আলোঝলমলে দো-তলা এক রেস্টুরেন্ট। সামনে নারকেল গাছের সারি, তাতেও আলোকসজ্জা করা। ঢুকতেই অন্যরকম একটা পরিবেশ। মিরপুরে এ রকম খাবারের আয়োজন হাতেগোনা। আর এ ধরনের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রথম করেন মো. সরোয়ার হোসেন। অন্যত্র চাকরি করা সত্ত্বেও তিনি এ ক্ষেত্রে সহযোগীদের সহায়তা পেয়েছেন আশানুরূপ। তাই অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছেন মিরপুরবাসীদের পছন্দের তালিকায়। মো. সরোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পর পর চাকরি শুরু করেন। ছেলেবেলা থেকেই চাইতেন তিনি অন্যরকম কিছুর সাথে জড়িত থাকবেন। সেই ভাবনা থেকেই শুরু করলেন বন্ধুরা মিলে কিছু কাজ। সে যাত্রায় তারা স্কুল করেছেন, আবাসন প্রকল্পের মতো কিছু কাজও হাতে নিয়েছেন। এতকিছুর পরেও ভাবলেন রেস্টুরেন্ট করবেন একটা। সেই ভাবনা থেকেই কাজ শুরু, আর একবছরে অনেক ভালো অবস্থানেই পৌঁছেছেন তারা। বলতে গেলে আশার চেয়েই বেশিই প্রাপ্তি অল্প সময়ে। মো. সরোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই অল্প সময়ে সফলতার কারণ কী? তিনি বলেন, ‘পরিবেশটাই অন্যরকম করে দিয়েছে বে-লিফের খাবারকে। অন্দরসজ্জাতেও আধুনিকত্ব আনার চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে দারুণ এক খানাপিনা আর আড্ডার সুযোগ পেয়েছে মিরপুরসহ আশপাশের মানুষ, চলছে ছোটখাটো পার্টিও। বে-লিফ রেস্টুরেন্ট আনন্দমুখর পরিবেশে জমিয়ে আড্ডা ও পরিবার-পরিজন নিয়ে সুস্বাদু খাবার উপভোগের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। মো. সরোয়ার হোসেন মনে করেন, খাদ্য ব্যবসা এক ধরনের সেবা। মো. সরোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, নতুন কেউ রেস্টুরেন্ট খুলতে চাইলে কোন কোন বিষয়ের উপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত? তিনি বলেন, ‘খাবারের মান তো অবশ্যই, সেই সাথে পরিবেশ। কোন জায়গায় কী রকম রেস্টুরেন্ট আবহ দরকার সেটা নিয়ে একটু খোঁজখবর নিতে হবে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যবসায়ে নতুন নতুন সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো স্বাদ আর সাশ্রয়ী মূল্যে পেলে সবশ্রেণীর মানুষই এখানে আসবে।’ মো. সরোয়ার হোসেনের ছেলেবেলা কেটেছে ঝালকাঠিতে। সেখানে শৈশব কাটানোর পর চলে আসেন ঢাকায়। ভর্তি হন মিরপুরের এক স্কুলে। তখন থেকেই অসাধারণ এক মায়ায় আটকে যাওয়া ইট কাঠের এই শহরে। স্ত্রী আর দুই সন্তান মায়িশা এবং ইফাজকে নিয়ে সুখেই বসবাস তার। তিনি স্বপ্ন দেখেন, যে পেশাতেই থাকেন, মানুষের জন্য কিছু করবেন, সেবামূলক কোনো কাজে জড়িত থাকবেন। তিনি সেটা পেরেছেন, তার জন্য শুভকামনা।
