মঞ্জুরুল আলম
হেড অব এইচআর,
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড
কাজের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যাংকিং সেক্টর বরাবরই এই প্রজন্মের কাছে অনেক বেশ কদর পেয়েছে। কারণ ব্যাংকিং সেক্টরে সুরক্ষিত ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। নিজেদের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে এই সেক্টরে সফল হয়েছেন এমনই একজনের কাছে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য কিছু পরামর্শ
মঞ্জুরুল আলম ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকিংয়ের এই সেক্টরে কাজের অনেক সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অফিসারের ভালো যোগাযোগ দক্ষতা এবং অন্যের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বোঝার ক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে। কর্মজীবনে একজন হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসী হতে হয়। নিজ প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান ও সেই অনুযায়ী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে হয় এই বিভাগের কর্মীদের।’ এরপরই তিনি এই পেশায় আসতে আগ্রহীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এই পেশায় যারা আসতে চান তাদের কিছু প্রাথমিক যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হবে। ব্যবসায় শিক্ষা ও এইচআরএম বিষয়ে ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা প্রাধান্য পেলেও অন্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা এ পেশায় আসতে পারেন। এ পেশায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ, ধৈর্য, সদালাপ, সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতাকে বিশেষ গুণ হিসেবে দেখা হয়।’ পরামর্শ হিসেবে এই ব্যাংকার নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যেমন দরকার, সেই সাথে ধৈর্য ধরে কোনো কাজ শেখা উচিত। স্বপ্ন তো দেখতেই হবে। তবে সেটা যেন অলীক না হয়। কেবল পদোন্নতির কথা ভাবলেই চলবে না। নিজের যোগ্যতা আর মেধা দিয়ে কাজ করে গেলে সফলতা এমনিতেই আসবে। কোনো প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলে গ্রহণ করা উচিত। সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে শেখার আগ্রহ থাকতে হবে। সবার উপরে দরকার নিজের ব্যাংকের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করা। সেটা করতে পারলে অন্য বিষয়গুলো আপনাআপনি হয়ে যাবে।’ ব্যাংকিংয়ে আমাদের দেশ অদূর ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাংকিংকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। এমনটাই মনে করেন তিনি।
ফার্মাসিউটিক্যাল
ওষুধ তৈরির পেছনে রয়েছেন ফার্মাসিস্ট। যারা শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করছেন রোগাক্রান্তের হাতে ওষুধ তুলে দিতে। ক্যারিয়ার হিসেবেও এই পেশা অনেক সম্ভাবনাময়। তাই এবার সফল একজন ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জানব এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার কিছু পরামর্শ।
রেজাউল করিম
গ্রুপ ব্র্যান্ড ম্যানেজার,
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স-মাস্টার্স করার পর এই ক্ষেত্রেই রেজাউল করিম নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের গ্রুপ ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের কর্মদক্ষতায় ইতোমধ্যেই অসংখ্য ফার্মাসিস্টের কাছে আস্থাভাজন একজন হয়ে উঠেছেন। নতুনদের কাজ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন আর পরামর্শ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুশির বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়ে পড়ার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীর কমতি নেই। সবাই ফার্মেসির জগতে কাজ করতে আগ্রহী। যথার্থ জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে এলে যে কেউ ভালো করতে পারবে এই জগতে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর মনে রাখা দরকার, শিক্ষার্থী থাকাকালীনই কেবল বই পড়ে আসলে হবে না, পরবর্তীতেও বই পড়ার অভ্যাস রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার অভিজ্ঞতাটাও বাড়াতে হবে। এখানে অভিজ্ঞতা আর ব্যবহারিক কাজটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘জীবনে প্রতিটি শিক্ষাই পেশাজীবনে কোনো না কোনোভাবে কাজে আসে। তাই অযথা অযাচিত ভাবনা না ভেবে প্রতিটি সময়কে আলাদাভাবে কাজে লাগানোর কৌশল শিখতে হবে। ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্সি ভালো থাকলে অন্যদের নজরে আসা যায় সহজেই। আর ছাত্রজীবনেই যদি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা যায় তাহলে নিজের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। যা কর্মজীবনে কাজে লাগে।’ রেজাউল করিম মনে করেন, বাংলাদেশ এখন ওষুধ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ। এ দেশে বর্তমানে আড়াই শ’র বেশি ওষুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানি সক্রিয়, এরমধ্যে অনেক কোম্পানি দেশীয় চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধ রফতানি করছে। এসব কোম্পানির প্রোডাকশন, প্রোডাক্ট ম্যানেজম্যান্ট, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ট্রেনিংসহ বিভিন্ন বিভাগে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাস্টিদের চাহিদা রয়েছে সব সময়। এ ছাড়াও গ্র্যাজুয়েট ফার্মাস্টিদের শিক্ষকতা, গবেষণা ও দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে তাদের অনেকের মধ্যেই অস্থিরতা দেখা যায়। কী হবে, কবে হবে কিংবা আদৌ কিছু হবে তো—এসব ভেবেই তাদের বেশিরভাগ সময় নষ্ট হয়। মনে রাখতে হবে, কাজের চেয়ে ভাবনা বেশি হলে বেশি দূর এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে।’
