প্রজন্মের একজন

হোয়াটসঅ্যাপ ও জন কুম

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২০:১৩
হোয়াটসঅ্যাপ, কিক, উইচ্যাট, মেসেজমি, লাইন স্মার্টফোন জগতের বাসিন্দাদের কাছে এ শব্দগুলো নতুন নয়। এসব কিছুই একেকটি জনপ্রিয় চ্যাট অ্যাপ্লিকেশন। ফোনে শুধু ইন্টারনেট সংযোগ রাখুন। আর ফোন-বুকে যে সমস্ত ‘কনট্যাক্ট’ রয়েছে তাদের সঙ্গে বিনা পয়সায় চ্যাট করুন। তবে শুধু চ্যাট কেন, এখানেও নিজের ছবি দিয়ে প্রোফাইল বানান, ঘন ঘন স্ট্যাটাস আপডেট করুন, বন্ধুদের ছবি ও ভিডিও পাঠান। অর্থাত্, ফেসবুকে যা যা করতে পারেন এই অ্যাপসগুলোতেও সেগুলোই করা যাবে। তবে এখানে একটা সুবিধা হলো, কোনো উটকো লোক আপনার চ্যাট অ্যাপসে ঢুকে পড়তে পারবে না! যাদের নম্বর আপনার ফোনবুকে রয়েছে চ্যাট করা যাবে শুধু তাদের সঙ্গেই। আর সে কারণেই সিলিকন ভ্যালিতে এখন জোর গুজব। ফেসবুক নয়, আগামীতে বাজি মাত করবে এই অ্যাপস নির্মাতা সংস্থাগুলো। তাই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া পৃথিবীর জনপ্রিয়তম ওয়েবসাইট ফেসবুক এখন বেশ প্রতিযোগিতার চাপে রয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে। অ্যাপসগুলো সম্পর্কে কিছু কথা চ্যাট আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং মিশেলে এত সহজভাবে সাজানো রয়েছে অ্যাপগুলোতে যে সেগুলো ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বৈ কমছে না। আর যুগটাই এখন স্মার্টফোনের। সরাসরি বলতে গেলে অ্যান্ড্রয়েডের, স্মার্টফোনের ‘সেরা অপারেটিং সিস্টেমের’। মূলত এই অ্যাপসগুলো অ্যান্ড্রয়েড নির্ভর। তবে আইওএসে, ব্ল্যাকবেরি, উইন্ডোজ সব অপারেটিং সিস্টেমেই চলে অধিকাংশ অ্যাপ। এই অ্যাপ থাকলে এসএমএসের কোনো প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, অফিসের কাজের কথা কিংবা সহকর্মীদের মধ্যে ‘ফ্লার্ট’ হোয়াটসঅ্যাপ, উইচ্যাট-নির্ভর। এমএমএস যুগও শেষ বলা চলে। এখন কাজ হলো ছবি তোলা, ভিডিও করা আর নিমেষের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পাঠিয়ে দেওয়া প্রিয় বন্ধুটিকে। বলাই বাহুল্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের নতুন দিশা হবে। সেখানে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে। আরেকটি দিক হলো, ফেসবুক জনপ্রিয় ছিল সেই সাইটে ফার্মভিলের মতো কিছু দুর্দান্ত গেমিংয়ের জন্য। সে রকমই বড় বড় চ্যাট অ্যাপ্লিকেশন সংস্থাগুলো এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যেখানে তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে গেমও খেলা যায়। সে ক্ষেত্রে ১০০ কোটি গ্রাহকে সমৃদ্ধ ফেসবুককে কড়া টক্কর দেবে এই অ্যাপসগুলো! এমনটাই জানালেন, হোয়াটস অ্যাপ-এর ডেভেলপার ও সিইও জন। এ ছাড়াও পিছিয়ে নেই রিচ মাইনারের ‘মেসেজমি’ অ্যাপসটি। সান-ফ্রান্সিসকোর মেসেজমি সংস্থা। গুগল ভেঞ্চাসরসের পার্টনার রিচ মাইনার এই সংস্থায় লগ্নি করেছেন। তিনি বলছেন, ‘চ্যাট অ্যাপস দুনিয়াম নতুন পা রেখেছে মেসেজমি। আমার ধারণা মানুষ যত বেশি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ঘুরে বেড়ায় তার চেয়ে ফোন কল ও টেক্সট করে বেশি। এ বার এসএমএস এবং ফোন কলের বিকল্প হিসেবে যদি একটি অ্যাপ ব্যবহার করতে শুরু করে মানুষ তা হলে এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন গ্রাহকের সংখ্যা খুব শীঘ্রই ফেসবুকের গ্রাহক সংখ্যার সমান হবে।’ মার্কিন সংস্থা ছাড়াও চ্যাট অ্যাপসে পা রেখেছে এশীয় সংস্থাগুলোও। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, লাইন, উইচ্যাট ও ক্যাকাওটক। উইচ্যাটের গ্রাহক সংখ্যা ইতোমধ্যেই টুইটারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে! ৪০ কোটি লোক এখন উইচ্যাট ব্যবহার করেন। লাইনের গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি। ক্যাকাওটকের ৮ কোটি। জন সম্পর্কে কিছু কথা হোয়াটস অ্যাপ ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং সার্ভিস। স্মার্টফোনে ব্যবহারের জন্য প্রথম এটি ডিজাইন করা হয়। বর্তমানে মোবাইলের টেক্সট মেসেজিং প্রযুক্তির পাশাপাশি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই অ্যাপসগুলো। ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারগুলো অ্যান্ড্রয়েড, ব্ল্যাকবেরি এবং আইওএসে চলে। এ ছাড়াও সিমবিয়ান ও উইন্ডোজ ফোনের জন্যও ডিজাইন করা হয় অ্যাপসটি। ২০০৯ সালে জন কুম ও ব্রায়ান একটনের হাত ধরে প্রথম আলোর মুখ দেখে অ্যাপস, ‘হোয়াটসঅ্যাপ।’ জন বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিইও হিসেবে কাজ করছেন। তারা দু’জনেই আগে ইয়াহুতে ছিলেন। ২০১২ সালের মধ্যেই অ্যাপটির জনপ্রিয়তা দুই বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। শুরুতে কিনে নিতে হলেও বর্তমানে অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে বিনামূল্যেই।