প্রজন্ম প্রত্যাশা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২০:১৪
যেকোনো পণ্যের ব্র্যান্ড বলতে বাজারে পরিচিত অন্যান্য পণ্য থেকে সেই পণ্যের সুনির্দিষ্ট পরিচিতি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে ব্র্যান্ড শিল্পের ভবিষ্যত্ অনেক আশাব্যঞ্জক। এ পেশায় যারা নিয়জিত রয়েছেন তাদের রয়েছে এ ক্ষেত্রটি নিয়ে নানা আশা। আমাদের দেশের ব্র্যান্ড শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সফল ব্র্যান্ড কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে তাদেরই মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন ব্র্যান্ডিং শিল্প নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা। তা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আফতাব মাহমুদ খুরশীদ চিফ ব্র্যান্ড অফিসার, গো-ব্র্যান্ড ‘কর্পোরেট দুনিয়ায় ব্র্যান্ডিং একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়’ আগামী দিনগুলোতে ব্র্যান্ডিং ক্যারিয়ারের দারুণ সম্ভাবনা দেখেন সময়ের এই ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। পেশা হিসেবে ব্র্যান্ডিং শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই দিনকে দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। যেকোনো ব্যবসার প্রসার ও উন্নয়নের সাথে সাথে সমাজ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্র্যান্ডিং অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। বর্তমান বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কেটিয়ারদের ভূমিকা অনেক বেশি। এই পেশায় নতুন কিছু করার সুযোগ অনেক এবং কাজের ক্ষেত্রও ব্যাপক বলে জানালেন আফতাব মাহমুদ খুরশীদ। তিনি আরও বলেন, ‘মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, কমিউনিকেশন্স, সেলস ইত্যাদি সেক্টরগুলো নতুনত্বের পরিবেশ এবং নতুনদের স্থান করে নেওয়ার জন্য আদর্শ। বর্তমানে নতুনরা তাদের নতুন চিন্তাভাবনা, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নিজেদের কাজের মধ্যে এক নতুন ধারা ও সাফল্য অর্জন করছে যা এ দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।’ তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যেই দেশ যত উন্নত, তার শক্তিশালী ব্র্যান্ডও তত বেশি। এর একটি কারণ হচ্ছে, উন্নত দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকে। যার কারণে মার্কেটে বিভিন্ন পণ্যের ডিমান্ড, মূল্য ও লাভের হার বেড়ে যায় এবং এরই জোগান দেওয়ার জন্য বাড়তে থাকে পণ্য বিক্রেতা। এই পণ্য বিক্রেতারাই নিজেদের পণ্যের বিভিন্ন দিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে তাদের ব্র্যান্ডগুলো আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই পর্যায়েই প্রয়োজন হয় মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং প্রফেশনালদের। সে জন্যই আমাদের দেশে এখানে কাজের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।’ কর্পোরেট দুনিয়া ব্র্যান্ডিং একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই প্রজন্মের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতাও ব্যাপক। আর সম্ভাবনার পথ ধরে এগিয়ে যেতে হলে কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। কোনো ছেলেমেয়ে যখন ব্র্যান্ড জিনিসটা না বুঝে বা এর মূল বিষয়গুলো না জেনে এই পেশাতে আসে তখন এ ঘটনা একই সাথে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। আশা করি খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ ০০০\ মোহাম্মদ সোলায়মান সুখন ব্র্যান্ড অ্যান্ড ইমেজ কনসালটেন্ট ‘ব্র্যান্ডিং শুধু প্রচারই নয়, মানের উপরও নির্ভর করে’ ব্র্যান্ডিং শিল্পে কাজ করতে গিয়ে যে কয়েক জন মানুষ তার মেধার প্রমাণ দিয়ে সামনে এগিয়ে গেছেন তাদের অন্যতম হলেন মোহাম্মদ সোলায়মান সুখন। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড ও মার্কেটিংয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে নিজেই স্বনির্ভর ব্র্যান্ড অ্যান্ড ইমেজ কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তরুণ এই কর্পোরেট মনে করেন, সময় এসেছে বাংলাদেশে বিশ্বমানের ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করার। গতানুগতিক ধারা তো নয়ই, সস্তা আকর্ষণের পিছে না ছুটে পরিকল্পনা করে এগোলেই ফলাফল আসবে। আর আগামী দিনগুলোতে আমাদের দেশের পণ্য দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়াবে, সেই সাথে ব্র্যান্ডিংটাকে হতে হবে শক্তিশালী। মোহাম্মদ সোলায়মান সুখন আশা প্রকাশ করেন, আমাদের দেশেও ভালো মানের কাজ সম্ভব। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি, সঠিক চিন্তাভাবনার অভাব, গণ্ডির ভেতরে আটকে থাকার প্রয়াস, ব্র্যান্ডিংকে আন্তর্জাতিকভাবে চিন্তা না করতে পারা, সেই সাথে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণেই আমরা আশানুরূপভাবে এগোতে পারছি না। এ সমস্যা সমাধানে তিনি প্রধানত দুটি বিষয়ের উপর জোর দেন। প্রথমত, শুধুই টেলিভিশনে বা বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনই ব্র্যান্ডিং নয়, সোশ্যাল মিডিয়াও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় আজ। এই খাতে বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে কাজ করা উচিত কোম্পানিগুলোর, বিনিয়োগটাও বাড়তে পারে এই ধরনের প্রচারে। দ্বিতীয়ত তিনি জোর দিলেন ব্র্যান্ডিংয়ের কন্টেন্ট আর মানের উপর। আর এখন চাইলেই দর্শক বা ভোক্তারা খুব সহজে তুলনা করে দেখতে পারেন আসলে কতটা মানসম্পন্ন কাজ হচ্ছে আমাদের দেশে। এই দিকগুলোতে নজর না দিলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নাও আসতে পারে। সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় সাইট ফেসবুক আর ইউটিউবে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়া এই তরুণ আরও বলেন, ‘নতুনরা অনেক ভালো কাজ করছে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আইডিয়াগুলো নির্দিষ্টতায় আটকে থাকে। অর্থাত্ নতুনরা নিজের গণ্ডি থেকে বের হতে পারছে না খুব আশাব্যঞ্জক হারে। সেজন্য তাদেরকে আমাদের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি সম্পর্কে আরও বেশি জানতে হবে। আর নতুন প্রজন্মের জন্য ইন্টারনেট অনেক বেশি সহায়ক জানার ক্ষেত্র বাড়াতে। এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। অর্থাত্ পড়াশোনার অভ্যাস চালু রাখতে হবে।’ ০০০০ কাজী মোফরাদ মুনতাসির ব্র্যান্ড ম্যানেজার, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ‘যে দেশ যত উন্নত, তার শক্তিশালী ব্র্যান্ডও তত বেশি’ দেশের সবচেয়ে স্বীকৃত পেইন্ট বার্জারের ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছেন কাজী মোফরাদ মুনতাসির। আমাদের তিনি জানিয়েছেন ব্র্যান্ডিং নিয়ে তার ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা। তিনি বলেন, ‘ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজের পণ্যকে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে ইলেক্ট্রোনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়াও ব্যবহার করা হয় বিলবোর্ড, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যাক্টিভ্যাশনসহ আরো অনেক মাধ্যম। ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের দুটি বিষয় সবসময় মনে রাখতে হয়, তা হলো, ক্রেতাদের পছন্দ ও মানসিকতা সবসময় পরিবর্তনশীল এবং তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমও একইসাথে পালটে যাচ্ছে। তাই আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয় এই দুই পরিবর্তনের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের পণ্যের প্রচার করা।’ প্রজন্মের এই ব্র্যান্ড ম্যানেজার বলেন, ‘লক্ষ করলে দেখা যায়, যে দেশ যত উন্নত, তার শক্তিশালী ব্র্যান্ডও তত বেশি। এর একটি কারণ হচ্ছে, উন্নত দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকে। যার কারণে মার্কেটে বিভিন্ন পণ্যের ডিমান্ড, মূল্য ও লাভের হার বেড়ে যায় এবং এরই যোগান দেওয়ার জন্য বাড়তে থাকে পণ্য বিক্রেতা। এই পণ্য বিক্রেতারাই নিজেদের পণ্যের বিভিন্ন দিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে তাদের ব্র্যান্ডগুলো আরও শক্তিশালী করে তোলেন। এই পর্যায়েই প্রয়োজন হয় মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং প্রফেশনালদের। বাংলাদেশ যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, তাই ধরে নেওয়া যায় যে যত দিন যাবে, দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়বে। এ সম্পর্কে তিনি কিছু পরামর্শ দিলেন, ‘নতুনদের ‘আউট অব দ্য বক্স’ ধরনের অনেক আইডিয়া থাকে। তাই তারা যদি দায়িত্বশীল হয়, তাহলে তাদের পক্ষে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব। সেই সাথে অনুধাবন ক্ষমতাটাও বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি এখনও দেশি-বিদেশি ক্যাম্পেইন ফলো করি এবং সময় পেলেই মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং নিয়ে কেইস ও বই পড়ি। ব্র্যান্ডিং বিষয়ে আমার প্রিয় লেখক আল রিস, যার প্রতিটি লেখা আমাকে ব্র্যান্ডিংয়ে আরও চৌকস করে তুলেছে।’