শৈশব থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু একটা করতে চাইতেন ইলোরা। খেলাধুলায় তার সাথে পেরে উঠত এমন মেয়ে খুব কমই ছিল স্কুলে, হাসতে হাসতে বললেন তিনি। তবে এসএসসি দিয়ে যখন বসেছিলেন, তখন এক আত্মীয়ের সহায়তায় কিছুদিন একটা এনজিওতে কাজ করেন। এরফলে তার অভিজ্ঞতার ঝুড়িটি সমৃদ্ধ হয়, আর একই সাথে কাজের ধরন ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা আসে। যেগুলো পরবর্তীতে তার কর্মজীবনে অনেক কাজে এসেছে। সাউথইস্ট ইউনভার্সিটি থেকে এমবিএ করে সাউথইস্ট ব্যাংকে চাকরির আবেদন করেন আর সুযোগও পেয়ে যান। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই ব্যাংকের সাথে আছেন। এখানের কাজের পরিবেশ আর নানান সুযোগ-সুবিধাই তাকে এখানে কাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। আর যখন কাজের সুযোগ পেলেন, তিনি চেষ্টা করেছেন সঠিকভাবে সেটা করতে।
ইলোরার কাছে প্রশ্ন ছিল, কেন এই পেশায় এলেন? তিনি দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলেন, প্রথমত ব্যাংকে কাজের পরিবেশ অনেক ভালো আর দ্বিতীয়ত সমাজের সব শ্রেণী-পেশার লোকের সাথে এখানে ওঠা-বসার সুযোগ হয়, যেটা অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক কম। থাকলেও সেভাবে উপভোগ করা যায় না মনে হওয়াতেই ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী হন ইলোরা।
ব্যাংকিংয়ে কাজের ক্ষেত্রে সবকিছুতেই স্বাচ্ছন্দ্য থাকলেও ইদানীং সময় নিয়ে অনেকেই অনেক বেশি সমস্যায় থাকেন বলে জানালেন ইলোরা। তিনি মনে করেন, দিন যতই যাচ্ছে ততই কাজের চাপ বাড়ছে; তবে ব্যাংকগুলো যদি সেই সাথে তাদের শাখা বৃদ্ধি করে, জনবল বাড়ায়, আর মানুষ যত বেশি অনলাইন নির্ভর হতে পারবে, এই সমস্যা ততই কমে আসবে। ক্ষণিকের এই সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পারলে এ পেশা আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। কাজ করতে করতে অনেক সময়ই অনেক সমস্যায় পড়তে হয়, এই সমস্যাগুলো কিভাবে সামাল দেন তিনি, আর এ ক্ষেত্রে নতুনরাই বা কী করতে পারে? বললেন, ‘আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যায়। সিনিয়রদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, তাদের সাথে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আর নতুনরা একটা স্বপ্ন নিয়ে এখানে কাজ করতে আসে, তারা যখন এ রকম সমস্যায় পড়ে, ভেঙে পড়ে। আদৌ এটা ঠিক নয়, ধৈর্য ধরাটা অনেক বেশি জরুরি। কারণ কোনো কাজেই একবারে সফলতা আসবে এমনটা ভাবার কিছু নেই, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে আর সেই অনুযায়ী নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কোনো লক্ষ্য থাকলে সেটা ঠিক করতে হবে, সেই সূত্র ধরে আস্তে আস্তে এগোতে হবে। কখনই এমনটা ভাবা উচিত নয় যে, ব্যাংকে চাকরি হয়ে যাওয়া মানেই সবটা শেষ হয়ে যাওয়া। এখানে ঢোকার পরেই আসল দায়িত্ব শুরু হয়। সে অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করতে হবে। লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারলেই সফল হওয়া সম্ভব।’ আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু অবদান রয়েছে। বৈদেশিক রেমিটেন্স থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আর এই সেবাটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
ইলোরার জন্ম ঢাকাতে, কামরুন্নেসা স্কুল থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হন, তারপর বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ থেকে দেন এইচএসসি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ছয় বোনের মাঝে তার অবস্থান চতুর্থ। স্বামী এসএম মুস্তায়েন হোসেন ছাড়াও তাদের সংসারে রয়েছে একমাত্র সন্তান শাহ আযওয়াত আহনাফ, সে পড়াশোনা করছে ওয়েস্ট ব্রিজ স্কুলে। আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে তার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি, এ কথাই বারবার বললেন তিনি।
ভবিষ্যতে তার ক্যারিয়ারের ভালো একটা অবস্থানে পৌঁছাতে চান তিনি, সেই সাথে পরিবারে সব মানুষকে নিয়ে আনন্দেই কাটাতে চান জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত! সেই স্বপ্নগুলো সফল হবে, এমনটাই প্রত্যাশা।
আম্মাতুর রাব ইলোরা
ডাকনাম :ইলোরা
জন্ম তারিখ ও স্থান :নভেম্বর ২, ঢাকা
বাবার নাম :আব্দুল আজিজ
প্রথম স্কুল :মিতালি শিশু বিদ্যাপীঠ
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :কারো উপকার না করতে পারলেও ক্ষতি করো না।
প্রিয় পোশাক :পরিস্থিতির সাথে মানানসই যেকোনো পোশাক।
অবসর কাটে যেভাবে :পরিবারের সাথে
সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারা।
