বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ভাষণ পুরোটাই যখন স্টেজে দাঁড়িয়ে সামিউল উপস্থাপন করে তখন তার চেয়ে বেশি দুক দুক করে তার মা মেহবুবা হকের বুক। তিনি বরাবরই তখন আল্লাহকে ডাকেন পাছে ছেলের কোন ভুল না হয়। আর সামিউলের ভাষণ শুরু করতেই একটু ভয় ভয় লাগে। শুরু হয়ে গেলে সব ঠিক। সামিউলের পুরো নাম কেএম সামিউল হক। বয়স আট বছরের কিছু বেশি। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আর কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার আবৃত্তি বিভাগ কথাবিতানের ছাত্র। এরই মধ্যে তিনবার ৭ই মার্চের ভাষণ উপস্থাপন করে জনপ্রিয় হয়েছে সামিউল।
বাবা আলহাজ্ব শামসুল হক খান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সামিউলের দেশের প্রতি দেশাত্মবোধ তৈরিতে বাবার বিশেষ ভূমিকা আছে। যখন মেলা থেকে ছোট্ট সামিউলকে ভাষণ করতে বলা হয় তখন বাড়ির সবাই মিলে এই কাজকে সফল করা দায়িত্ব মনে করেন। বোন ইন্টারনেট থেকে ভাষণ ডাউনলোড করে দেয়। বাবা দেশ, দেশের প্রেক্ষাপটে ভাষণ নিয়ে আলোচনা করেন। আর শিক্ষক চন্দ্র চৌধুরী ভাষণ আয়ত্তে আনতে নানা কলাকৌশল শিখিয়ে দেন। ভাষণ মুখস্ত করে সেভাবে উপস্থাপন করতে সামিউলের একমাস সময় লেগে যায়। সামিউলই প্রথম পুরো ভাষণ করে। আমার এক্সপেকটেশন সে ফুলফিল করতে পেরেছে। আর মেলার সভাপতি খোন্দকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ছোটদের কাছে আমাদের চাওয়া অনেক বেশি হওয়া উচিত নয়। তারপরও সামিউল ছোট্ট বয়সে অনেক বড় কাজ করছে। কচি-কাঁচার মেলা নতুন প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের আলোকে মানুষ বানানোর প্রত্যয়ে ব্রত। এখান থেকে অনেক বন্ধু মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আজও অনেকে দেশের নানা পেশায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিঃসন্দেহে আমাদের সত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই আমরা এই ভাষণ দিয়ে ওদের মধ্যে দেশের প্রেক্ষাপটে ভাষণের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছি। আমরা মনে হয় ছোটরা বন্ধুর মুখে ভাষণটা শুনছে, বোঝার চেষ্টা করছে। আমি সামিউলের সাথে কথা বলে দেখেছি ভাষণ উপস্থাপন করার পর থেকে ওর মধ্যে অন্যরকম একটা বোধ তৈরি হয়েছে। অন্য বাচ্চাদের চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ওর আগ্রহ বেশি। আর এই আগ্রহ থেকেই সামিউল বড় হয়ে দেশের জন্য কিছু করা যায় এমন পেশায় যেতে চান।
