সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের কারণে মারা গেছে মনিরুল ইসলাম (৪৫)। এনিয়ে গত ২ বছরে গ্রামটিতে আর্সেনিকের ছোবলে প্রায় ১৬ জনের মৃত্যু হল। আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য কয়েকটি রিং-টিউব ওয়েলের (গভীর পাতকূয়া) ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এতে আলমপুর গ্রামে আর্সেনিকমুক্ত পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরুল ইসলামের শরীরের পাশাপাশি বাম হাতের তালুতে পচন রোগ দেখা দেয়। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে আর্সেনিক আতংক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ৪ হাজার মানুষের এই গ্রামে গড়ে দুটি পরিবার একটি করে টিউবওয়েল ব্যবহার করতে পারে। অধিকাংশগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এগুলোর প্রতিটিতেই লাল রঙ দিয়ে চিহ্ন দেয়া হলেও আর্সেনিকমুক্ত পানি স্বল্পতার কারণে গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে সংসারের কাজের পাশাপাশি ওই পানি পান করছেন। যে কারণে আলমপুর গ্রামের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ কম-বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।
গ্রামবাসীরা আরো জানান, গত ২ বছরে আলমপুর গ্রামের একই পরিবারের ৮ জনসহ কমপক্ষে ১৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ১৯৯৫ সালের দিকে গ্রামটিতে প্রাথমিকভাবে আর্সেনিক ধরা পড়ার পর সে সময় বেশ কিছু এনজিও আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ভিটামিন জাতীয় ওষুধ সরবরাহ করলেও বিগত কয়েক বছর যাবত্ সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আলমপুরবাসীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। ২০০০ সালের পর থেকে বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করাতে কয়েকটি রিং-টিউব ওয়েলের ব্যবস্থা করে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে প্রায় ২ বছর আগে বেসরকারি একটি সংস্থা কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে আলমপুর উত্তরপাড়ায় আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করানোর লক্ষ্যে আর্সেনিক প¬ানেট তৈরি করে দেয়। কিন্তু পল্ল¬¬ীবিদ্যুত্ সমিতি ওই প¬ানেটের বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় পানি সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামটির প্রায় ৪ হাজার মানুষ আর্সেনিকের সাথে বসবাস করলেও তাদের রক্ষা করার জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি।
