গাইবান্ধায় ব্যস্ততম সড়কে ওয়েল্ডিং কারখানা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৮
গাইবান্ধা শহরসহ জেলার ৭টি উপজেলার ব্যস্ততম সড়কগুলোর উপর অসংখ্য ওয়েল্ডিং কারখানা গড়ে উঠেছে। এতে লোক ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া কারখানার বেগুনী রশ্মি বিদ্যালয়গামী শিশুদের চোখের ক্ষতি করছে। এতে কারখানা সংলগ্ন এলাকা ও শহরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড, ভিএইড রোড, খানকা শরীফ, ডিবি রোড, পুরাতন বাজার এলাকায় ওয়েল্ডিং কারখানার সংখ্যা বেশি। এসব কারখানায় ঝালাইয়ের কাজ করার সময় বেগুনী রশ্মি ও আগুনের ফুলকি ৩-৪ হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। শহরের ব্রিজ রোডে অবস্থিত গাইবান্ধা এনএইচ মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল হোসেন বলেন, ব্যস্ততম সড়কের উপর এসব কারখানা গড়ে উঠায় স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা বেশি বিপাকে পড়ছে। তাই তাদেরকে কারখানার দিকে না তাকিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ওয়াজিউর রহমান বলেন, পরিবেশের তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী এসব কারখানা গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পর থেকে কারখানায় কাজ করার নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে দিন-রাত ঝালাইয়ের কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, এসব কারখানা নির্জন এলাকায় স্থাপনের জন্য কারখানা মালিকদের অনুরোধ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এদিকে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরাও ঝুঁকি নিয়ে চোখে কালো চশমা কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়েই কাজ করছেন। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডাঃ আহাদ আলী বলেন, এসব কারখানার বেগুনী রশ্মির কারণে চোখের ছানিপড়া রোগ হওয়ার আশংকা বাড়ে ও দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। এছাড়া চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে কাজ করায় কারখানার শ্রমিকদের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। শহরের ভিএইড রোডের কারখানা শ্রমিক জাহেদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, শুনেছি বেগুনী রশ্মি চোখের জন্য ক্ষতিকর ও কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ। ঝালাইয়ের কাজ করায় চোখের সমস্যায় ভুগছি। তারপরও অভাবের কারণে দৈনিক মজুরি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের ব্রিজ রোড এলাকার এক কারখানা মালিক জানান, পথচারিদের যাতে চোখের ক্ষতি না হয় সেজন্য সতর্কভাবে কাজ করা হয়ে থাকে। কারখানা পরিবেশ দূষিত করে ঠিক। কিন্তু শতাধিক লোক এসব কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। গাইবান্ধা পৌর মেয়র শামছুল আলম বলেন, শহরে এধরনের কারখানা স্থাপনে পৌরসভা থেকে অনুমতি দেয়া হয় না। এটা দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু গাইবান্ধায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অফিস নেই। তারপরও সড়কের উপর থেকে কারখানা সরানোর জন্য মালিকদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে।