জেসমিনের শুনানি গ্রহণে অপারগ হাইকোর্ট

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
জামিনের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত দেয়ার নিম্ন আদালতের শর্ত বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম। একইসঙ্গে এসব মামলায় জেসমিনকে দেয়া জামিন বাতিলের জন্যও আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি কাশিফা হোসেনের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চে উভয়পক্ষের আবেদন শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়; কিন্তু এসব আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে বেঞ্চ। পরে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের আবেদনগুলো প্রত্যাহার করে নেন। গত ৪ অক্টোবর হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ ২৭ জনকে আসামি করে অর্থ পাচার সংক্রান্ত ১১টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহারে সোনালী ব্যাংকের ‘হোটেল রূপসী বাংলা’ শাখা থেকে মোট দুই হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত্ করার অভিযোগ আনা হয়। এসব মামলায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি জেসমিনকে জামিন দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরবর্তীকালে এসব মামলায় দেয়া জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন এক আইনজীবী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কেন জামিন বাতিল করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। পরে হাইকোর্টের নির্দেশ সাপেক্ষে জেসমিনের জামিন বাতিল করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। এর ৫ মাস পর পুনরায় জামিন চেয়ে একই আদালতে আবেদন করেন জেসমিন ইসলাম। প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত প্রদানের শর্তে গত ৪ আগস্ট জেসমিনকে ১১টি মামলায় জামিন দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জহুরুল হক। এসব মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া এই শর্ত বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন জেসমিন ইসলাম। আবেদনে বলা হয়, প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত দেয়ার শর্তে নিম্ন আদালত জেসমিন ইসলামকে জামিন দেয়। আইনানুযায়ী কাউকে জামিন দেয়া হলে শর্ত আরোপ করা যায় না। এ ধরনের শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগ বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তাই জেসমিনের জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের শর্ত আরোপ বে-আইনি। তাই শর্ত বাতিল করা হোক। অপরদিকে ১১ মামলায় জেসমিনের জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। আবেদনে বলা হয়, জেসমিন ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলো তদন্তাধীন। জামিন পাওয়ায় তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে। জেসমিনের জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে শুধু ‘নারী’ বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া ঠিক হয়নি, একইসঙ্গে অপরাধের গুরুত্বের বিষয়টি আদালতের বিচেনায় নেয়া দরকার ছিলো। তাই এ পর্যায়ে তার জামিন বাতিল করা হোক। পরে এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। কমিশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং জেসমিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। আইনজীবীরা জানান, টেকনিক্যাল কারণে আদালত আমাদের আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।