অপারেশনের ১১ মাস পর রোগীর পেট থেকে বের করা হলো ২ টুকরা গজ কাপড়। এ কারণে পচে গেছে রোগীর নাড়িসহ পেটের কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। খুকুমনি (২০) নামের ওই রোগী বর্তমানে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সেখানে তার আবারও অপারেশন করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এগার মাস আগে উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের আব্দুল গফুর শেখের মেয়ে খুকুমনি সন্তান প্রসবের জন্য কলারোয়া মডার্ণ ক্লিনিকে ভর্তি হন। ভর্তির পর তাকে অপারেশন (সিজার) করেন ওই ক্লিনিকের ডা. মেহের উল্লাহ। অপারেশনের পর ডাক্তার তড়িঘড়ি করে সেলাই করেন। কিন্তু বেখেয়ালে পেটের ভিতর রেখে দেন দুই টুকরা গজ কাপড়। ১১ মাস যন্ত্রণা ভোগ করার পর সম্প্রতি খুকুমনির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভর্তি করা হয় সাতক্ষীরা শহরের ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মনোয়ার হোসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফের অপারেশন করে খুকুমনির পেট থেকে ওই গজ কাপড় বের করে আনেন।
ডাক্তার মনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন পেটের ভিতর গজ কাপড় থাকার কারণে খুকুমনির পেটের নাড়িসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে পচন ধরেছিলো। বর্তমানে বাইপাসের মাধ্যমে মল-মূত্র ত্যাগ করানো হচ্ছে। সুস্থ হতে কতোদিন লাগবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে সুস্থ হবার দুই মাস পর খুকুমনিকে আবারো অপারেশন করতে হবে।
হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ৫নং বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন চিকিত্সকের অবহেলার শিকার অসহায় খুকুমনি। পাশে তার এগার মাস বয়সের সন্তান কাজল ফ্যাল ফ্যাল করে বার বার মায়ের মুখ দেখছে আর মায়ের সাথে সেও ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। খুকুমনির গোঙানি দেখে হাসপাতালে অবস্থানরত অন্য রোগীদের স্বজনরা সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন করে বলেন, ডা. মেহের উল্লাহ কী কসাই না ডাক্তার ? উনি কী হাতুড়ে ডাক্তার না ভুতুড়ে ডাক্তার ? উনি কী জীবন নিয়ে বাণিজ্য করেন?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. মেহের উল্লাহ বর্তমানে কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে চাকরি করছেন। এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে (০১৭১২২০৬৬৫৪) বার বার ফোন দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. এস জেড আতিক জানান, রোগীর পক্ষ থেকে কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে ওই ডাক্তার ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে খুকুমনির পরিবারসহ তার এলাকার জনগণ ডাক্তার মেহের উল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
