সাভারে নতুন কৌশলে চলছে চাঁদাবাজি। আগে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা কোনো এলাকায় কেউ বাড়ি-ঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করলে সরাসরি চাঁদা দাবি করত। কিন্তু বর্তমানে তারা চাঁদাবাজির কৌশল পাল্টেছে। এখন চাঁদাবাজরা সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কেউ নতুন ইমারত নির্মাণ করতে গেলে সেখানে গিয়ে বলে যে, ‘আমাদের কাজ দিতে হবে, আমরা আপনার নির্মাণ কাজের সব মালামাল সরবরাহ করব। অন্যথায় কাজ করতে পারবেন না।’
কেরানীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ এলাকার দুই ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা সাভারে পৃথক দুই এলাকায় জমি কিনে রেখেছিলেন। বর্তমানে ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে চান। কিন্তু ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি তার নির্মাণ কাজের ইট, বালু, রড, খোয়া, সিমেন্ট সরবরাহ করবে বলে চাপ প্রয়োগ করছে। কেরানীগঞ্জ এলাকার ওই ব্যক্তি জানান, তার আত্মীয়ের ইটভাটা রয়েছে সেখান থেকে তিনি ইট আনবেন। কিন্তু ওইসব চিহ্নিত চাঁদাবাজ তা মানতে নারাজ। এ রকম অভিযোগ আরো অনেকের।
সাভারে বহু শিল্প কলকারখানা স্থাপিত হওয়ায় এটি শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ফলে সাভারের পার্শ্ববর্তী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন কাজের সন্ধানে এখানে এসে বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই আবার সাভারে জমি ক্রয় করে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু উক্ত জমিতে বসতি স্থাপনের জন্য বাড়ি ঘর নির্মাণ করতে গেলেই এলাকার চিহ্নিত মাস্তান ও চাঁদাবাজরা এসে হাজির হয় এবং তাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করার জন্য বলে। কেউ যদি তাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী কিনতে না চায় তাহলে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় জমির মালিকদের। এমনকি বিরোধ সৃষ্টি করে জমি দখল করে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তারা তাদের পছন্দের ইটভাটা থেকে ইট ক্রয় করলে প্রতি গাড়ি ইট (৩ হাজার পিস) ২৭ হাজার টাকায় ভাড়াসহ আনতে পারেন। কিন্তু ওইসব মাস্তান প্রতি গাড়ি ইটের জন্য বিল করে ৩০ হাজার টাকা। ফলে ২০ গাড়ি ইট আনলে ওইসব মাসত্মান ৬০ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিতে পারে। তাও আবার তাদের সরবরাহকৃত ইটের মান নিম্নমানের। একই কায়দায় সিমেন্ট, বালু ও খোয়া তারা সরবরাহ করে। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিম্নমানের মালামাল এবং অতিরিক্ত বিলের কথা জেনেও মাস্তানদের কাজ দিতে হচ্ছে। উপায় নেই, কারণ আমরা অন্য এলাকা থেকে এখানে এসেছি। নইলে বাড়ি তৈরি করা তো দূরের কথা, এখানে টেকাই মুশকিল হয়ে যাবে।
এ রকম ‘নীরব’ চাঁদাবাজি শুধু বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রেও এ অবস্থা। নতুন বাসিন্দা ও শিল্পকারখানার মালিক সকলেই জিম্মি এসব ‘স্মার্ট ’চাঁদাবাজদের কাছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, এ রকম কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
