ভারতের ৮০ কোটি মানুষকে কম দামে খাদ্য দেবে সরকার

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৮
তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টি একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় অন্তত ৮০ কোটি মানুষকে কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করবে সরকার। ভারতীয় পার্লামেন্টে এ ধরনের বিল আনলে বিরোধী দল তার বিরোধিতা করতে পারে এমন আশংকায় মন্ত্রিসভায় তা অধ্যাদেশ আকারে পাস করা হয়েছে। এর আওতায় ভারতের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ লোকের প্রতিজন মাসে পাঁচ কেজি করে খাদ্যশস্য পাবেন। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামাজিক কর্মসূচি। ভারতের বিরোধী দলগুলোর বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, বৈতরণী পার হতে ক্ষমতাসীন সরকার এ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংসদে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হলেও বিরোধী দলের বিরোধিতার মুখে তা এখনো পাস করতে পারেনি সরকার। অবশেষে সংসদকে পাস কাটিয়ে অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় মানুষকে সস্তায় খাদ্য সরবরাহের যে প্রকল্প সরকার নিয়েছে তাতে ভারতের অর্থনীতি এক মারাত্মক সমস্যায় পড়বে। তবে সরকারের মত হচ্ছে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে দেশটিতে দারিদ্র্য এবং ক্ষুধার্থ মানুষের সংখ্যা কমবে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর মোট দরিদ্র মানুষের মধ্যে এক চতুর্থাংশের বাস ভারতে। সাবেক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে দিল্লিতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কংগ্রেস পার্টির প্রধান সোনিয়া গান্ধী। অন্য যে চারটি রাজ্যে কংগ্রেস সরকার রয়েছে সেগুলোতে আগামী মঙ্গলবার এ কর্মসূচি চালু হবে। অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর কেন্দ ীয় খাদ্যমন্ত্রী কে ভি থমাস সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে এ অধ্যাদেশ পাস করেছে। বুধবার এটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী একজন ভারতীয় প্রতিমাসে তিন কেজি চাল এবং দুই কেজি গম পাবেন। এক্ষেত্রে প্রতিকেজি চালের দাম তিন টাকা এবং প্রতিকেজি গমের দাম দুই টাকা ধরা হয়েছে। ভারতের এ কর্মসূচিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে কর্মসূচি উদ্বোধনকালে সোনিয়া গান্ধী বলেন, দেশের প্রত্যেক গরিব মানুষকে খাওয়াতে কংগ্রেস সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে ভারত একেবারেই অপ্রতিরোধ্য। তিনি বলেন, আমাদের অনেক মানুষ না খেয়ে থাকে। অনেক শিশু এখনো অপুষ্টির শিকার। আমরা যে কর্মসূচি নিয়েছি তাতে একটি শিশুও না খেয়ে ঘুমাতে যাবে না। উল্লেখ্য, জনপ্রিয় সামজিক কর্মসূচি কংগ্রেস যে এবারই গ্রহণ করেছে তা নয়। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস সরকার প্রায় সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের কৃষিঋণ মওকুফ করে দিয়েছিলো।