চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হচ্ছে না ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দুটির বিচার কাজ। মামলার ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা গত বছর আশা করেছিলেন ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করতে অন্তত একশ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে। এর আগে গত বছর ২১ আগস্ট পর্যন্ত এ মামলার ৬৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আর এ বছর মাত্র ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে এ বিচার কাজ শেষ নাও হতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। তবে এ ব্যাপারে এ মামলার পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে, এই বছরের মধ্যে এ মামলার বিচার কার্য শেষ হতে পারে’।
২০০৪ সালের এই ভয়াবহ ঘটনায় করা মামলায় ২০১০ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্তের পর তারেক রহমান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জনকে আসামির তালিকায় যোগ করে মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন সিআইডির বিশেষ সুপার আব্দুল কাহহার আকন্দ। ফলে আলোচিত এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। ঐ বছরের ১৮ মার্চ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন বিশেষ আদালতে বিচার কাজ চলছে।
গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, একুশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলারই বিচার কাজ চলছে। সর্বশেষ মামলার ৭২তম সাক্ষী র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের সাবেক উপ-পরিচালক মেজর (অব.) আতিকুর রহমান জবানবন্দি দিয়েছেন।
পেছনের কথা ঃ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ঐ চার্জশিটে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। ২০১০ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, লুত্ফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ। ৫২ জন আসামির মধ্যে ২৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন র্যাবের হাতে। বাকিরা পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার হয়েছেন।
জামিনে আছেন যারা ঃ পুলিশের সাবেক তিন মহা-পরিদর্শক (আইজি) আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, খোদা বকস চৌধুরী, সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তা রুহুল আমিন, মুন্সী আতিকুর রহমান, আবদুর রশিদ, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিএনপি নেতা কাউন্সিলর আরিফুর রহমান।
পলাতক ঃ এ মামলায় এখনো পলাতক দেখানো হয়েছে—তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, বিএনপির এমপি কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল বাবু, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর (অব.) এটিএম আমিন, মাওলানা তাজউদ্দিন, ঝিনাইদহের ইকবাল, বরিশালের মাওলানা আবু বকর, মাগুরার খলিলুর রহমান, ঢাকার দোহারের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও গোপালগঞ্জের মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ারকে। এ ছাড়া ভারতের তিহার কারাগারে আটক হুজির সদস্য আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন।
কারাগারে রয়েছেন ঃ এ মামলার আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহা-পরিচালক আব্দুর রহিম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ, মাওলানা ফরিদ, মুফতি আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, হুজির সাবেক আমির মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ বাট, জঙ্গি আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান, মহিবুল্লাহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মো. আবদুস সালাম পিন্টু, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ ও মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন।
