বেনজির হত্যাকাণ্ডে মোশাররফ অভিযুক্ত

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৫
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো হত্যা মামলায় সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মুশাররফকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির ওই আদালতে তার বিরুদ্ধে বেনজীরকে হত্যার পরিকল্পনা, তাতে সহযোগিতা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। যার ফলে, এই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সাবেক সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হলো। বিশেষ করে যে দেশটি জন্মের অর্ধেকেরও বেশি সময় সামরিক শাসনের অধীনে ছিল এবং যেখানে সেনাবাহিনী এখনো প্রভাবশালী সেখানে একজন সাবেক সেনাপ্রধানের অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা নজীরবিহীন। খবর:সিএনএন। মুশাররফ ছাড়াও আরো ছয়জনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গি ও দুই জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানিতে মুশাররফ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুনানি শেষে মুশাররফের আইনজীবী সৈয়দ আফসান আদিল বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। মুশাররফের মুখপাত্র রাজা বোখারি এক বিবৃতিতে বলেন, এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুশাররফের সম্মান ও অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আজহার বলেন, তার বিচার হওয়া উচিত। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মুশাররফের বিচার হওয়া উচিত। ২০০৭ সালের নভেম্বরে মুশাররফ অবৈধভাবে সংবিধান বাতিল করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ ঘটনা নওয়াজ শরীফের সরকার ও প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী জনসভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় হামলার শিকার হন মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো। হামলায় বেনজীরসহ মোট ২৪ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হন। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন পারভেজ মুশাররফ। হত্যাকাণ্ডের পর মুশাররফ সরকার জঙ্গি সংগঠন তালেবানের নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদকে দায়ী করে। ২০১০ সালে বেনজীর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার যথাযথ নিরাপত্তা দিলে হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০১১ সালে বেনজীর হত্যার অভিযোগপত্রে মুশাররফের নাম যুক্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ১৯৯৯ সালে রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের তত্কালীন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল পারভেজ মুশাররফ, হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এর নয় বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার অনুসারী ও সমর্থকদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। অভিসংশনের হুমকির মুখে ওই বছরের অগাস্টে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান মুশাররফ। চার বছর লন্ডন ও দুবাইয়ে কাটিয়ে গত ২৪ মার্চ পাকিস্তানে ফেরেন সাবেক এই সেনাশাসক। গত ১৯ এপ্রিল থেকে তিনি রাজধানী ইসলামাবাদে গৃহবন্দি আছেন।