আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৮
সিলেটের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণে উবে যাওয়া গ্যাস ও পরিবেশের ক্ষতি আদায়ে বাংলাদেশের আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হবে। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাসের দাম শোধ করার বিষয়ে পরে নির্দেশনা দেয়া হবে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুটেড (ইকসিড) বুধবার ওয়াশিংটনে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এই নির্দেশনাকে বাংলাদেশের জন্য আরো একটি জয় বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো বাংলাদেশে টেংরাটিলা ও ফেনী গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়নে যৌথ অংশীদারিত্বের চুক্তি করে। মামলার রায় ঘোষণার পর পেট্রোবাংলা আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. অধ্যাপক হোসেন মনসুর জানান, ইকসিডের এই রায়কে স্বাগত জানাই। আন্তর্জাতিক আদালতে আমাদের আবারো জয় হলো। এটি বাংলাদেশের পক্ষে ন্যায়বিচার হয়েছে। টেংরাটিলা ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপ খননকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি প্রথম দফা ও একই বছরের ২৪ জুন দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এজন্য তাদের কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা বা ৩৫.৫৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই অর্থ আদায়ের জন্য স্থানীয় আদালতে মামলা করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। আদালত টেংরাটিলার জন্য ক্ষতিপূরণ না দেয়া পর্যন্ত ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাসের দাম শোধ না করার নির্দেশ দেয়। একই সাথে তাদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এই প্রেক্ষিতে নাইকো ইকসিড-এ মামলা করে। গতকাল সেই মামলার নির্দেশনা দিল। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টেংরাটিলা বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মীমাংসার কোন এখতিয়ার নেই। বিষয়টি বাংলাদেশের নিজস্ব আদালতের বিষয়। তবে ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাসের দাম পেট্রোবাংলা শোধ করবে কিনা সে বিষয়ে তারা পরে নির্দেশনা দেবে। ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র। এ ক্ষেত্র উন্নয়নে ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ চুক্তি করে নাইকো। ওই সময় গঠিত তদন্ত কমিটি গ্যাস ক্ষেত্রের উপরিভাগের স্ট্র্যাকচার থেকে ৩ বিএসএস গ্যাস এবং তার পরের স্ট্র্যাকচার থেকে ৫.৯ বিএসএফ গ্যাস পুড়ে গেছে বলে জানায়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৬৬১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার গ্যাস ও প্রায় সাড়ে ৮৪ কোটি টাকা পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। নাইকোর পরিকল্পনা ও অপারেশনের গাফলতিতে এ বিস্ফোরণ হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালতে ৭৪৬ কোটি টাকা বা ৩৫.৫৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করে সরকার। এ মামলার আগে ক্ষতিপূরণের সঙ্গে সমন্বয় করতে নাইকোর অধীন ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের দাম দেয়া বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। ওই ক্ষেত্রের গ্যাসের দাম বাবদ নাইকো পেট্রোবাংলার কাছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। পরবর্তীকালে নাইকোর ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়া হলেও মূল সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় ২০১০ সালের মে মাসে নাইকো ইকসিড-এ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২টি মামলা করে। একটি টেংরাটিলার ক্ষতিপূরণ অন্যটি ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাসের টাকা আটকে রাখার মামলা। ২০১১ সালের ১৩ ও ১৪ অক্টোবর শুনানি হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর পর গতকাল এই দুই মামলার মধ্যে একটির নির্দেশনা দিয়েছে ইকসিড। অন্যটির বিষয়ে পরে জানানো হবে।