বিএনপি আপাতত: তাদের দলীয় কাউন্সিল আর করবে না। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দুইজন সদস্য কাউন্সিলের পক্ষে বললেও বাকিরা বিপক্ষে মত দেন। পরে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের এ অবস্থায় বিএনপির কাউন্সিলের চেয়ে বেশি জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল। বেগম জিয়া কাউন্সিলের ব্যাপারে এখন আর মাথা না ঘামিয়ে চলমান আন্দোলনকে আরো গতিশীল এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকেই মনোযোগ দিতে নির্দেশ দেন নেতাদের।
বর্তমান সরকারের আমলে দুইবার কাউন্সিলের তারিখ ঠিক করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ৯ মার্চ ও পরে ১৯ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১১ মার্চ সোমবার বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করে দলীয় কার্যালয় থেকে কাউন্সিলের কাগজপত্র পুলিশ নিয়ে গেলে খালেদা জিয়া দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে কাউন্সিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপি’র সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বরে। এই কাউন্সিলে প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মহাসচিব পদে বহাল রাখা হয়। একইসঙ্গে ৩৮৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (দ্বিতীয় সংশোধনী)-এর আওতায় এই কাউন্সিল ও নতুন কমিটি করে বিএনপি ২০১০ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেয়। গত বছরের ১৬ মার্চ খোন্দকার দেলোয়ারের মৃত্যু হলে খালেদা জিয়া তার ওপর দলীয় গঠনতন্ত্র অর্পিত ক্ষমতাবলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর দলের কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এই বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা জানান, কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নেয়া হবে। আন্দোলন আর নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচনের পরে ছাড়া কাউন্সিল করা সম্ভব হবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, প্রয়োজনমত কাউন্সিল করা হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এখন ব্যস্ত। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর রয়েছে। নির্বাচনকালীন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম গঠনের কাজ চলছে। সময় হলে কাউন্সিল হবে।
গত দুই বছরে খালেদা জিয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সব রাজনৈতিক জেলা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি। ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে ৬৪টির কমিটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই ৬৪ জেলার ইউনিয়ন, থানা, পৌর কমিটি গঠনের কাজ চলছে। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে এইসব কমিটি গঠনের পর দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা । তবে প্রায় সর্বত্রই গ্রুপ-পাল্টা গ্রুপের দৌরাত্ম্য। অভ্যন্তরীণ বিরোধপূর্ণ পটুয়াখালী, পিরোজপুর,মানিকগঞ্জসহ ১১ জেলা কমিটি এখনো সম্পন্ন হয়নি। ১১টি অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সবগুলোর কমিটির মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। এর মধ্যে কৃষকদলের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৩ বছর। দুইটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটি হলেও এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি তারা। যুবদলের কমিটির মেয়াদ শেষ। নতুন কমিটি নিয়ে গত বছরের মধ্যভাগে তোড়জোড় চললেও তা থেমে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দেড় বছর।
মহিলা দলের মেয়াদও শেষ। এই দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মিল না থাকায় কার্যক্রমে গতি নেই। ওলামা দলের একই নেতৃত্ব দিয়ে চলছে বছরের পর বছর। তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে কৃষক দল ও তাঁতী দল। দীর্ঘ ১৩ বছর কৃষক দলের সম্মেলন না হওয়ার কারণে সংগঠনটির তৃণমূল পর্যায়ে এলোমেলো অবস্থা। শ্রমিক দলের কমিটির মেয়াদ ফুরিয়েছে কয়েক বছর আগে। কমিটিতে সভাপতি পদে রয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটও কাউন্সিল না করার পিছনে কাজ করছে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।
খালেদার নরসিংদীর জনসভা
পিছিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর
খালেদা জিয়ার নরসিংদীর জনসভা একদিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ১৮ দলীয় জোটের এই জনসভা ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী, ১৬ সেপ্টেম্বর রংপুর, ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল ও ৫ অক্টোবর সিলেটে এবং ঈদুল আযহার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৮ দলীয় জোটের জনসভা। এতে বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া।
